
কানাডার প্রতি ৪ জনের মধ্যে একজন নারী গর্ভধারণের আগে ও গর্ভকালীন সময়ে ফলিক অ্যাসিডের উপকারিতা সম্পর্কে অবগত নন বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এক দশকের বেশি সময়েও এ ব্যাপারে সচেতনতায় উন্নতি হয়নি। ফলিক অ্যাসিড শিশুর জন্মকালীন ত্রুটি প্রতিরোধ করে।
মাউন্ট সিনাই ফার্টিলিটির চিকিৎসক ও ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর সহযোগী অধ্যাপক ডা. ক্লেয়ার জোন্স বলেন, আমার রোগীদের মধ্যে অনেককে প্রায়ই ভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে দেখি। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাপ্লিমেন্টটি তারা গ্রহণ করেন না।
একাধিক ক্লিনিশিয়ান ও চতুর্থ বর্ষের মেডিকেল শিক্ষার্থী বিরাটি মেহরা পরিচালিত এই গবেষণার ডা. জোন্স একজন সহ-লেখক। মেহরা বলেন, গর্ভধারণের তিন মাস আগে থেকে আমরা লোকজনকে ফলিক অ্যাসিড শুরু করার পরামর্শ দিয়ে থাকি। এরপর পুরো গর্ভকালীন সময়টাতে এটা অব্যাহত রাখতে বলি।
২৯ সপ্তাহের গর্ভবতী লিয়া ডামাটা বরেন, ফলিক অ্যাসিডের ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আমি নিজেও এটা জানতাম না। বিষয়টি ভাবলেই হাসি পায়। এবং আমি প্রিনেটাল কেয়ারের কাজ করি। তিনি পেলভিক স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষজ্ঞ একজন ফিজিওথেরাপিস্টও।
ডামাটা বলেন, ওভার দ্য কাউন্টারে অনেক ধরনের সাপ্লিমেন্ট রয়েছে। তাই কোনটি জরুরি, কতটুকু জরুরি, কখন তা শুরু করা প্রয়োজন, ঠিক কী ধরনের সাপ্লিমেন্ট জরুরি সেটা জানা দরকার। তাই আমার কাছে এটা খুব বিভ্রান্তিকর মনে হয়।
বি৯ ভিটামিন ফলিক অ্যাসিড ব্রেইন ও স্পাইনের মধ্যে নিউরাল টিউব গঠনে সহায়তা করে। এর অভাবে অনেক সময় শিশু কনজেনিটাল অস্বাভাবিকতা নিয়ে জন্মাতে পারে। এ ধরনের একটি সাধারণ সমস্যা হচ্ছে স্পাইনা বিফিডা।
১৯৯০ এর দশকের গবেষণায় দেখা যায়, ফলিক অ্যাসিড এ সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে। তাই ২০০০ সালের গোড়ার দিকে কানাডা কোম্পানিগুলোকে ফলিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ ফর্টিফাই পাস্তা, ব্রেড, সিরিয়াল ও অন্যান্য দানাদার খাদ্য প্রস্তুত করার দায়িত্ব দিয়েছে।

