
এপার-বাংলা আর ওপার-বাংলা, দুই বাংলার সংযোগ ঘটিয়ে গত ২২ নভেম্বর, শুক্রবার সন্ধ্যায়, টরন্টোস্থ টরন্টো প্যাভিলিয়নে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল কালজয়ী সঙ্গীতশিল্পী শ্রীকান্ত আচার্যের একক সঙ্গীত সন্ধ্যা। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিল সম্মিলিতভাবে ‘আমাদের উঠোন’, আর ‘তুখোড় বাংলা’। অনুষ্ঠানটিতে ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় বাংলাগানের শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য ছাড়াও অংশ নেন স্থানীয় গুণী শিল্পীবৃন্দ। তাঁদের মধ্যে ছিল প্রখ্যাত নৃত্যগুরু বিপ্লব করের নেতৃত্বে তাঁর সংগঠন ‘নৃত্যকলা কেন্দ্র’, আপন গোস্বামী ও তাঁর দল, বাচিক শিল্পী শেখর গোমেজ, এবং সারেগামাপা খ্যাত সুমনা গাঙ্গুলি দে। যন্ত্রসঙ্গীতে ছিলেন রুপতনু শর্মা, রনি পালমার, এবং শিল্পী শ্রীকান্তের সাথে আসা বাদকদল। অনুষ্ঠানটির চমৎকার শব্দ নিয়ন্ত্রণ ছিল লক্ষ্যনীয়, যার দায়িত্বে ছিল ‘ড্যানফোরথ সাউন্ড’।
কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উপচে পড়া দর্শক উপস্থিতি ছিল অনুষ্ঠানটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার ছিল টরন্টোর প্রথম চব্বিশ ঘণ্টার বাংলা টেলিভিশন ‘এনআরবি টিভি’ এবং কানাডার সর্বাধিক পঠিত বাংলা সংবাদপত্র ‘বাংলামেইল’। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক হিসেবে ছিলেন লেখক ও জনপ্রিয় উপস্থাপক তাসমিনা খান এবং প্রাণবন্ত উপস্থাপক, সৃজিত চৌধুরী। অনুষ্ঠানটিতে শিল্পী শ্রীকান্ত বরাবরের মতই সকল দর্শকদের মনোবাঞ্ছা পূরণ করতে শতভাগ সফল হয়েছেন এবং শতভাগ দর্শকই আবারো টরন্টোতে আমন্ত্রণ জানিয়ে একরাশ ভালোবাসা নিয়ে বিদায় নেন। শিল্পী শ্রীকান্তের পরিবেশিত গানগুলোর মধ্যে প্রায় গানেই দর্শকেরা কণ্ঠ মিলিয়ে আবেগ, উচ্ছ্বাস, ভালোলাগা, ভালবাসা, আর মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে, ‘ভালো আছি, ভালো থেকো’, ‘বৃষ্টি তোমাকে দিলাম’, ‘আমি খোলা জানালা’, ‘আমি চলতে চলতে থেমে গেছি’, ইত্যাদি গানগুলোর সাথে দর্শকের উচ্ছাস ছিল লক্ষ্যনীয়।
অনুষ্ঠান শেষে ‘আমাদের উঠোন’ সংগঠনের বাংলাদেশোদ্ভুত দক্ষ সংগঠক সপ্না দাসের নেতৃত্ব এবং কঠোর পরিশ্রমের ফসল এই আয়োজনকে দর্শকেরা প্রভুত প্রশংসা আর ভালবাসায় সিক্ত করেন এই রকম রুচিশীল এবং সফল একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য। অনুষ্ঠানটিতে আয়োজকদের তালিকায় আরও ছিলেন মাহবুবা উদ্দিন, সুমি বর্মণ, সায়েদা বারী, এবং ‘তুখোড় বাংলা’ সংগঠনের দেবাশিষ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে তাঁর সংগঠকবৃন্দ। অবশেষে ভারতীয় উপমহাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় এই বাংলা আধুনিক গান এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার, এবং সঙ্গীত পরিচালক, শ্রীকান্ত আচার্যের পরিবেশিত প্রতিটি গানের প্রভূত প্রশংসা করেই সন্তুষ্ট চিত্তে দর্শকেরা বিদায় নেন।

