Latest Posts

অত্যাবশ্যকীয় পণ্যে জিএসটি প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিল এনডিপি

- Advertisement -
জাগমিত সিং ঘোষণা দিয়েছেন যদি তার দল পরবর্তী ফেডারেল নির্বাচনে সরকার গঠন করতে পারে, তবে অত্যাবশ্যকীয় সব পণ্য ও সেবার ওপর থেকে পণ্য ও সেবা কর (জিএসটি) সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হবে

জীবনযাত্রার ব্যয় যখন কানাডার রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় আলোচনার বিষয়, তখনই এক সাহসী অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)। দলটির নেতা জাগমিত সিং ঘোষণা দিয়েছেন যদি তার দল পরবর্তী ফেডারেল নির্বাচনে সরকার গঠন করতে পারে, তবে অত্যাবশ্যকীয় সব পণ্য ও সেবার ওপর থেকে পণ্য ও সেবা কর (জিএসটি) সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হবে।

এই উদ্যোগকে জাগমিত সিং বলেছেন, “মধ্যবিত্ত ও কর্মজীবী পরিবারের কাছে বাস্তব স্বস্তি ফিরিয়ে আনার একটি পদক্ষেপ।” বৃহস্পতিবার টরন্টোর ঐতিহ্যবাহী কানাডিয়ান ক্লাবে প্রদত্ত এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, “কানাডিয়ানরা এখন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মুদি দোকানে গিয়ে দাম দেখে তারা হতবাক হয়। আমরা চাই না তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর সরকারের অতিরিক্ত বোঝা থাকুক। মুদি পণ্যে যেমন জিএসটি নেই, এখন সময় এসেছে সেই ছাড়কে আরও বিস্তৃত করার।”

- Advertisement -

এনডিপি তাদের প্রস্তাবে বলেছে, জিএসটি ছাড়ের আওতায় আনা হবে জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত কয়েকটি মৌলিক খাত। এর মধ্যে রয়েছে প্রাক-প্রস্তুতকৃত (ready-made) খাবার, গ্রোসারি স্টোরের তৈরি মিল, ১৫ বছরের নিচের শিশুদের পোশাক, ডায়াপার, গৃহ উষ্ণীকরণ ব্যবস্থা (হোম হিটিং), মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট বিল।

দলটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এই নীতির ফলে একটি গড় কানাডিয়ান পরিবার বছরে অন্তত ৫০০ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবে।”

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডায় খাদ্য, জ্বালানি ও বাসস্থান ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনে তীব্র চাপ তৈরি করেছে। মুদ্রাস্ফীতি রেকর্ড উচ্চতায়, আর বাড়িভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল অনেক পরিবারের মাসিক বাজেটকে অস্থিতিশীল করেছে। এমন পরিস্থিতিতে এনডিপি মনে করছে, এই কর-ছাড়ের প্রস্তাব সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “এনডিপি মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির আর্থিক দুশ্চিন্তাকে হাতিয়ার করে ভোটব্যাংক শক্তিশালী করার কৌশল নিয়েছে।”

তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করলে সরকারের রাজস্বে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অত্যাবশ্যকীয় পণ্যে জিএসটি মওকুফের ফলে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে।

এই ঘাটতি পূরণের জন্য এনডিপি প্রস্তাব করছে “অতিরিক্ত মুনাফা কর” (Excess Profit Tax) যা মূলত বড় করপোরেশনগুলোর রেকর্ড মুনাফার ওপর আরোপিত হবে।

জাগমিত সিং এ বিষয়ে বলেন, “করপোরেট জায়ান্টরা যখন রেকর্ড মুনাফা করছে, তখন সাধারণ মানুষ টিকে থাকার লড়াই করছে। অর্থনীতির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার সময় এখনই। সাধারণ মানুষকে নয়, ধনীদেরই বেশি অবদান রাখতে হবে।”

এনডিপির এই প্রস্তাব রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যেই আলোড়ন তুলেছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশ একে “সাহসী কিন্তু চ্যালেঞ্জিং” পরিকল্পনা বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সরাসরি ভোক্তাদের উপকারে এলেও সরকারের ব্যয়ভার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

একজন বিশ্লেষক বাংলামেইলকে বলেন, “এই নীতি স্বল্পমেয়াদে জনসমর্থন আনতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব ঘাটতি এবং সরকারি সেবা ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।”

এনডিপি এর আগেও অনুরূপ প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে দলটি হাউস অব কমন্সে হোম হিটিং বিলের ওপর থেকে স্থায়ীভাবে জিএসটি প্রত্যাহারের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। তবে তখন শুধুমাত্র এনডিপি ও গ্রিন পার্টি এর পক্ষে ভোট দেয়, ফলে বিলটি পাস হয়নি।

অন্যদিকে, অন্টারিওসহ কয়েকটি প্রদেশে আংশিকভাবে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যেমন শিশুদের পোশাক ও কিছু প্রস্তুতকৃত খাদ্যপণ্যের ওপর থেকে প্রাদেশিক বিক্রয় কর (এইচএসটি-এর প্রাদেশিক অংশ) বাতিল করা হয়েছে। তবে ফেডারেল পর্যায়ে এখনো সর্বজনীন জিএসটি ছাড় কার্যকর হয়নি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এনডিপির এই প্রতিশ্রুতি সরাসরি মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে লক্ষ্য করে সাজানো। বাড়িভাড়ার চাপ, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, এবং জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম এই তিনে দিশেহারা জনগণ এমন একটি সরকারের অপেক্ষায় আছে, যারা তাদের পাশে দাঁড়াবে।

একজন এনডিপি কৌশলবিদ বাংলামেইলকে বলেন, “মানুষ এমন সরকার চায়, যারা ধনীদের নয়, সাধারণ পরিবারের পাশে থাকবে। আমরা চাই, এমন একটি ন্যায্য অর্থনীতি গড়ে তুলতে যেখানে একজন মা তার সন্তানের ডায়াপার কেনার সময় ট্যাক্স নিয়ে চিন্তা না করেন, কিংবা কেউ ইন্টারনেট বিল দিতে গিয়ে দুশ্চিন্তায় না পড়েন।”

এনডিপির এই নীতি কার্যত লিবারেল সরকারের কর কাঠামোর বিরুদ্ধে এক নতুন অর্থনৈতিক বিতর্কের সূচনা করেছে। আগামী ফেডারেল নির্বাচনে “জীবনযাত্রার ব্যয়” এবং “কর সংস্কার” যে কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠবে, তা এখন স্পষ্ট।

জাগমিত সিংয়ের ভাষায়, “আমাদের অগ্রাধিকার পরিষ্কার কানাডিয়ান পরিবার আগে, করপোরেট মুনাফা পরে।” এই প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে এনডিপি কেবল একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, বরং একটি জনমুখী রাজনৈতিক দর্শন প্রকাশ করেছে যেখানে সাধারণ মানুষের টিকে থাকা ও স্বস্তিকেই রাজনীতির কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.