Latest Posts

কঠিন শীতে আশ্রয়কেন্দ্র উষ্ণ রাখতে সাস্কাটুন সিটির অতিরিক্ত দুই লাখ ডলার অনুমোদন

- Advertisement -
প্রখর শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে সাস্কাটুন সিটি কর্তৃপক্ষ মানুষের উষ্ণতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে

প্রখর শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে সাস্কাটুন সিটি কর্তৃপক্ষ মানুষের উষ্ণতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। বুধবার সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তিনটি শীতকালীন ওয়ার্মিং সেন্টারের জন্য অতিরিক্ত দুই লাখ ডলার বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। এই অর্থ ঘাটতি পূরণ করে কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালানোর জন্য ব্যয় হবে।

সিটি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক লেসলি অ্যান্ডারসন জানিয়েছেন, “এই মৌসুমে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে সচল রাখার জন্য প্রায় ১২ লাখ ডলার প্রয়োজন। ইতোমধ্যেই আমরা সরকারি অনুদান ও অন্যান্য তহবিল থেকে ১০ লাখ ডলার জোগাড় করেছি। আজকের সভায় অনুমোদিত দুই লাখ ডলার ঘাটতি পূরণ করবে।”

- Advertisement -

এই অর্থ শহরের সংরক্ষিত মূলধনী তহবিল (রিজার্ভ ক্যাপিটাল ফান্ড) থেকে নেওয়া হবে। সাস্কাটুনের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, বরফে আচ্ছাদিত দীর্ঘ শীতে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এখন সময়ের দাবি।

জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক পামেলা গোল্ডেন-ম্যাকলিয়ড বলেন, “গত সোমবার ইন্ডিয়ান অ্যান্ড মেটিস ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারে ২৬০ জন বাসিন্দা আশ্রয় নিয়েছিলেন। গত বছরের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় এই সংখ্যা ছিল ২৩৫ জনের কাছাকাছি। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শীত যত বাড়বে, তাপমাত্রা যত কমবে, ততই আশ্রয়ের প্রয়োজন বাড়বে।”

তিনি আরও জানান, “আমরা সব অংশীদার, স্বেচ্ছাসেবক ও জরুরি সেবাদাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিশ্চিত করতে চাই, যেন কোনো নাগরিক ঠান্ডায় বাইরে রাত কাটাতে না হয়।”

শহর প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাতের শেল্টারগুলো চালু রাখতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ লাখ ডলার। এর অধিকাংশ অর্থ আসবে প্রাদেশিক ও ফেডারেল সরকারের অনুদান থেকে। স্থানীয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত দাতাদের সহায়তাও থাকবে।

বণ্টনের বিস্তারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী – ইন্ডিয়ান অ্যান্ড মেটিস ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার: ৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, সেন্ট মেরি’স মেন’স ওভারনাইট ওয়ার্মিং স্টেশন (সালভেশন আর্মি পরিচালনা): ৩ লাখ ৫৬ হাজার ডলার, ওভারনাইট আউটরিচ সেবা (সইটোসান সংস্থা পরিচালনা): ১ লাখ ডলার।

বাংলামেইলের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাস্কাটুনের এই উদ্যোগ শুধু মানবিক পদক্ষেপ নয়, এটি শহরের সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। প্রখর ঠান্ডা মানুষকে অসহায় করে তুললেও, স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগ নাগরিকদের জীবনে নিরাপত্তা ও আশার বার্তা বহন করছে।

স্থানীয় দাতব্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে শীতকালীন আশ্রয়ের চাহিদা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে গৃহহীন, নিম্নআয়ের পরিবার ও শরণার্থী সম্প্রদায়ের জন্য শীতকাল সবচেয়ে কঠিন সময় হয়ে উঠেছে।

পামেলা গোল্ডেন-ম্যাকলিয়ড বলেন, “এখন আমরা এমন এক বাস্তবতায় রয়েছি, যেখানে একটি গরম কম্বল, উষ্ণ চা বা নিরাপদ কক্ষের মূল্য জীবন বাঁচাতে পারে। এই বাজেট অনুমোদন মানে শুধু টাকা নয়, এটি মানুষের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি।”

একজন বয়স্ক নাগরিক বাংলামেইলকে বলেন, সাস্কাটুনের এই মডেল অন্যান্য শহরগুলোর জন্য উদাহরণ হতে পারে, যেখানে স্থানীয় সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও জনগণ মিলিতভাবে শীতকালীন মানবিক সেবায় কাজ করছে।

শহর প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “শীতের রাত যত দীর্ঘই হোক, আমাদের লক্ষ্য একটাই প্রত্যেক নাগরিক যেন উষ্ণতা ও নিরাপত্তা অনুভব করতে পারে।”

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.