Latest Posts

টরন্টোয় জীবনযাত্রার মানে অবনতি, নিরাপত্তাহীনতায় ৪০ শতাংশ নাগরিক

- Advertisement -
শহরবাসীর এই উদ্বেগের পেছনে রয়েছে ক্রমবর্ধমান অপরাধ, আবাসন সংকট, ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা

কানাডার অর্থনৈতিক রাজধানী টরন্টো যে শহর একসময় নিরাপদ, প্রাণবন্ত ও সুযোগে ভরপুর ছিল সেখানে বাসিন্দাদের অর্ধেকেরও বেশি এখন মনে করছেন, গত এক বছরে তাদের জীবনযাত্রার মান আরও খারাপ হয়েছে। শহরবাসীর এই উদ্বেগের পেছনে রয়েছে ক্রমবর্ধমান অপরাধ, আবাসন সংকট, ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা।

সিটি অব টরন্টোর পক্ষ থেকে পরিচালিত ‘লিসেনিং টু টরন্টো’ শীর্ষক সমীক্ষা বিখ্যাত গবেষণা সংস্থা ইপসসের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ১,১৪২ জন টরন্টোনিয়ান অংশগ্রহণ করেন। সমীক্ষার ফলাফলে শহরের নাগরিকদের হতাশা, অসন্তোষ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের এক চিত্র উঠে এসেছে।

- Advertisement -

সিটি ম্যানেজার পল জনসন বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল বোঝা যে টরন্টোবাসী তাদের শহর সম্পর্কে কী অনুভব করছেন, তারা আমাদের সেবাগুলো নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট, এবং ভবিষ্যতে কোন খাতে উন্নতি চাইছেন। ফলাফল থেকে দেখা যাচ্ছে, শহরে উন্নতির অনেক জায়গা এখনও খোলা আছে।”

টরন্টোর বাসিন্দাদের প্রধান উদ্বেগ আবাসন, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং সাশ্রয়ী ভাড়ার অভাব। সমীক্ষায় প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ আশঙ্কা করছেন, আগামী বছরেও ভাড়া, সম্পত্তি কর ও ইউটিলিটি বিল বৃদ্ধি পাবে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলি এই চাপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

শহরের নাগরিকরা পরিবহন ব্যবস্থার অদক্ষতা এবং ক্রমবর্ধমান যানজটকে দ্বিতীয় প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অনেকেই উল্লেখ করেছেন, প্রতিদিনের যাতায়াত মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে এবং শহরের উৎপাদনশীলতাকেও প্রভাবিত করছে।

ডাউনটাউন এবং সাবওয়ে এলাকাগুলোতে চুরিচামারি, মাদকসেবন ও হিংসাত্মক ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। নাগরিকরা অপরাধ বৃদ্ধি ও গৃহহীনতাকেও গুরুত্বসহকারে সমস্যার তালিকায় রেখেছেন।

সমীক্ষার আরও ফলাফলে দেখা গেছে, নাগরিকরা শহরের বিভিন্ন পাবলিক সুবিধা যেমন পাবলিক ওয়াশরুম, খেলার মাঠ, পার্ক, কমিউনিটি সেন্টার, চাইল্ডকেয়ার এবং গণপরিবহন এ আরও বিনিয়োগ চাইছেন। এছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

পল জনসন বলেন, “নাগরিকরা আমাদের সেবার ওপর মোটামুটি সন্তুষ্ট হলেও, জীবনযাত্রার মানে যে স্থায়ী নিম্নগতি এসেছে তা আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে। বিশেষ করে বাজেট পরিকল্পনায় নাগরিকদের অগ্রাধিকারকেই প্রাধান্য দিতে হবে।”

সামাজিক গবেষকদের মতে, এই সমীক্ষার ফলাফল আগামী ২০২৫ সালের টরন্টো সিটি কাউন্সিলের বাজেট পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। নাগরিকরা এখন কেবল উন্নয়ন নয়, বরং ‘বেঁচে থাকার যোগ্য একটি শহর’ ফিরে পেতে চাচ্ছেন।

পল জনসন সমাপ্তিতে বলেন, “টরন্টো এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে উন্নয়ন এবং মানবিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.