Latest Posts

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক শীতল, তাইওয়ানের সঙ্গে কানাডার কূটনৈতিক উষ্ণতা বাড়ছে

- Advertisement -
পাশাপাশি তাইপেতে কানাডার উপস্থিতি রয়েছে “কানাডিয়ান ট্রেড অফিস ইন তাইপে” নামের একটি কূটনৈতিক কার্যালয়ের মাধ্যমে

অটোয়ারার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি ভবনে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে অদ্ভুত এক বিষয় সেখানে “তাইওয়ান” শব্দটি নেই। তবে দরজায় এবং সেবাকেন্দ্রের দেয়ালে বড় হরফে লেখা রয়েছে “তাইপে ইকোনমিক অ্যান্ড কালচারাল অফিস ইন কানাডা।” এটি কার্যত তাইওয়ানের ডি ফ্যাক্টো দূতাবাস হিসেবে কাজ করছে। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পেলেও, বাস্তবে কানাডা তাইওয়ানের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রাখছে।

পাশাপাশি তাইপেতে কানাডার উপস্থিতি রয়েছে “কানাডিয়ান ট্রেড অফিস ইন তাইপে” নামের একটি কূটনৈতিক কার্যালয়ের মাধ্যমে। নামকরণই নির্দেশ করছে যে, দুই দেশের সম্পর্ক আনুষ্ঠানিক নয়, তবে ধীরে ধীরে তা ঘনিষ্ঠতায় রূপ নিচ্ছে।

- Advertisement -

তাইওয়ানের কানাডাস্থ প্রতিনিধি বলেন, “যে কেউ তাইওয়ান ভ্রমণে যেতে চান, তারা চীনা দূতাবাস থেকে ভিসা পাবেন না। তাদের আমাদের অফিসে আসতে হবে। এটি প্রমাণ করে আমরা একটি ডি ফ্যাক্টো রাষ্ট্র।” তিনি আরও যোগ করেন, “কানাডা আমাদের স্বাধীনতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না দিলেও, বাস্তবে তারা আমাদেরকে স্বাধীন অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে।”

ছোট্ট দ্বীপ তাইওয়ান অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়তনে মাত্র ৩৬ হাজার বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ হলেও, উচ্চ প্রযুক্তি, চিপ উৎপাদন এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে এর অবস্থান বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক যতটা শীতল, তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক ততটাই উষ্ণ হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুপ্তচরবৃত্তি, বাণিজ্যিক সীমাবদ্ধতা ও কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে চীন-কানাডা সম্পর্ক সংকটাপন্ন। অন্যদিকে, তাইওয়ানের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং মুক্তবাজার নীতি কানাডার জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।

অটোয়ায় নিযুক্ত এক সাবেক কূটনীতিক বাংলামেইলকে বলেন, “চীনের ‘এক চীন নীতি’-এর কারণে কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারছে না। তবে বাস্তবে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে।”

প্রতিবছর কানাডা-তাইওয়ান বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছুঁয়েছে। কানাডা থেকে প্রধানত কৃষিপণ্য, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং প্রযুক্তি সরঞ্জাম রপ্তানি হয়, আর তাইওয়ান থেকে আসে সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিকস এবং যান্ত্রিক পণ্য। দ্বিপাক্ষিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনাও ইতিমধ্যেই আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।

চীনের সামরিক উপস্থিতি তাইওয়ান প্রণালীতে বাড়ার পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো তাইওয়ানের প্রতি সহানুভূতিশীল। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি কানাডাও তাইওয়ানের আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছে।

অন্যদিকে চীন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তাইওয়ানের নাম ও পরিচয় সীমিত রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, অলিম্পিকসহ অন্যান্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তাইওয়ানকে “চাইনিজ তাইপে” নামে অংশগ্রহণ করতে হয় যা চীনের প্রভাবের ফল।

তবু, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার মূল্যবোধে বিশ্বাসী দেশগুলো তাইওয়ানের পাশে দাঁড়াচ্ছে। কানাডার রাজনীতি, গণমাধ্যম এবং ব্যবসায়িক অঙ্গনে তাইওয়ান-বান্ধব মনোভাব ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ান এখন কানাডার কাছে শুধু একটি ভূ-রাজনৈতিক অংশীদার নয়, বরং প্রযুক্তি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার সম্ভাবনাময় দ্বার। চীনের সঙ্গে উত্তেজনা যতই বাড়ুক না কেন, কানাডা-তাইওয়ান সম্পর্ক এখন এক নতুন বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে যেখানে কূটনৈতিক সীমারেখার চেয়েও বড় হয়ে উঠছে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং অভিন্ন মূল্যবোধের বন্ধন।

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.