
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খল সময়ে হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান সহিংসতার প্রতিবাদে টরন্টো শহরের প্রাণকেন্দ্র নাথান ফিলিপস স্কোয়ার এবং বেঙ্গলি হাব বলে পরিচিত ইস্ট ইয়র্কের বাংলাপাড়ার ডেন্টোনিয়া পার্কে সমাবেশ করেন বিপুল সংখ্যক কানাডাবাসী বাংলাদেশি হিন্দু। শনিবার দুপুরে নাথান ফিলিপস স্কয়ারে এবং রবিবার সন্ধ্যায় ডেন্টোনিয়া পার্কের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে এ সমাবেশ করেন তারা। উভয় সমাবেশেই বাংলাদেশি অন্য ধর্মের মানুষ এবং অবাঙালিরাও যোগ দেন সংহতি জানাতে।
নাথান ফিলিপস স্কোয়ারের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় গত শনিবার দুপুরে। কানাডার সংসদ সদস্য কেভিন ভন, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রতিনিধি অভিষেক চৌবে এবং কানাডিয়ান হিন্দু চেম্বার অফ কমার্সের সাবেক সভাপতি নরেশ চাওডা সমাবেশে উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। বাংলাদেশি ছাড়াও অংশ নেন বেশ কিছু বিদেশিরা।
উল্লেখ করা যেতে পারে যে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ত্যাগ করার পর সারা দেশজুড়ে বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের উপর যে দুর্যোগ নেমে আসে তার তীব্র প্রতিবাদ করেন নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত জনতা দার্ঢ্যকণ্ঠে ঘোষণা করেন যুগের পর যুগ ধরে হিন্দুদের উপর এমন নির্মমতা আর মেনে নেওয়া যায় না। তাঁরা সকল অত্যাচারের বিচার এবং দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবী করেন। তাঁরা মনে করেন, বাংলাদেশকে হিন্দুশূন্য করার এটি একটি চক্রান্ত।
পরদিন রবিবার সন্ধ্যায় বাংলাপাড়ার ডেন্টোনিয়া পার্কে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উভয় সমাবেশেই গ্রেটার টরন্টো এলাকার বাইরে মিসিসাগা, ব্রাম্পটন, গুয়েলফ, অশোয়া, অরোরা, এজাক্স, পিকারিং এবং সংলগ্ন অন্যান্য শহরের বাংলাদেশি হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিপুল সংখ্যক মানুষ যোগ দেন।
উভয় সমাবেশ থেকেই দাবী তোলা হয় যেন কানাডা সরকার বাংলাদেশে চলমান রাজনীতি প্রতি দৃষ্টি রাখে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোকে বিচারের আওতায় আনা হয়।
উল্লেখ করা যেতে পারে যে, টরন্টোর চব্বিশ ঘন্টার বাংলা টেলিভিশন চ্যানেল এনআরবি ডেন্টোনিয়া পার্কে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশের ধারণকৃত বিস্তৃত প্রতিবেদন ইতোমধ্যেই টেলিভিশনে প্রচার করেছে।

