
২০২০ সালে ইরানের সামরিক বাহিনীর গুলিতে ভূপাতিত একটি বাণিজ্যিক জেট লাইনারের নিহত যাত্রীদের পরিবারগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী একটি কানাডিয়ান গ্রুপের সদস্যরা বলেছেন, ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর অর্থ হলো তাদের স্বজনদের মৃত্যুর পেছনে তার ভূমিকার জন্য তিনি আর বিচারের মুখোমুখি হবেন না। এদিকে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ইরানের গণতন্ত্রের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে অটোয়া ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কিনা সে ব্যাপারে কিছু জানাননি তিনি।
২০ মে ঘন কুয়াশার মধ্যে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে ইরান এই দুর্ঘটনার কোনো কারণ কিংবা এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা সে ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করেনি। দেশের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে পবর্তময় এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।
২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি ভূপাতিত ফ্লাইট পিএস৭৫২ এর যে ১৭৬ জন যাত্রী নিহত হন তার মধ্যে ছিলেন খুরুশ দস্তশেনাসের বান্ধবীও। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে বিমানটিতে একটি মিসাইল আঘাত হানার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত রাইসি বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য আকাশ উন্মুক্ত রেখেছিলেন।
ইউক্রেনিয়ান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সটির ফ্লাইটের যে ১৭৬ জন যাত্রী নিহত হন তার মধ্যে কানাডিয়ান নাগরিক ছিলেন ৫৫ জন এবং স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন ৩০ জন। তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ছোড়া মিসাইলের আঘাতে ভূপাতিত হয় উড়োজাহাজটি।
খুরুশ দস্তশেনাস বলেন, অনেকের কাছে ‘তেহরানের কসাই’ নামে পরিচিত রাইসি ১৯৯৮ সালের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে গণহত্যা, ২০১৯ সালের নভেম্বর হত্যাকা- এবং ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া ইউম্যান, লাইফ, ফ্রিডম আন্দোলনে দমন-পীড়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আরও একজন কট্টরপন্থী তার স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন। একই কথা ইরানের পররষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তার স্থলাভিষিক্ত যিািন হতে যাচ্ছেন তার সঙ্গেও রয়েছে একই রেকর্ড।
কারণ, চার দশক ধরে একই ব্যবস্থার মধ্যে তিনি কাজ করেছেন। সুতরাং, তার মৃত্যুতে আমার মধ্যে সুখের বা ক্ষোভের কোনো অনুভূতি নেই। কারণ, এই মৃত্যু ইরানিয়ান শাসনব্যবস্থার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

