
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সনাতন বেঙ্গলি কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন (এসবিসিএ), একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। সামাজিক সংহতি, সম্প্রীতি এবং অন্তর্ভুক্তির নীতিতে দায়বদ্ধ এই নির্দলীয় সংগঠনটি ওয়াটারলুতে বসবাসকারী হিন্দুদের এবং হিন্দু সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উত্সাহীদের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে চলেছে। শুধু তাই নয়, এসবিসিএ এই অঞ্চলে সক্রিয়ভাবে দাতব্য ও সেবামূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক-সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার দিকে কাজ করে চলেছে ।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে, এসবিসিএ জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ নির্বিশেষে বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট ব্যক্তি এবং পরিবারকে একত্রিত করার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছে। এসবিসিএ সদস্যবৃন্দরা বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ওয়াটারলু অঞ্চলে বাঙালি ঐতিহ্য এবং মূল্যবোধ সংরক্ষণের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় তারা জ্ঞানের দেবী সরস্বতীকে আবাহনের মাধ্যমে উদযাপন করে বসন্ত পঞ্চমী, দেবী দুর্গাকে আবাহনের মাধ্যমে তারা প্রাণবন্ত ভাবে উদযাপন করে শারদ উৎসব, সবার জন্য মঙ্গল কামানার্থে তারা মিলিত হয় বিজয়া সম্মিলনীতে, সম্পদ ও সমৃদ্ধির জন্য পূজা করে দেবী লক্ষ্মীর, অন্ধকারকে পরাভূত করে আনন্দ এবং আশার আলো ছড়িয়ে দেবার জন্য তারা উদযাপন করে দীপাবলি এবং কালীপূজা।
এসবিসিএ আর্থ-সামাজিকভাবে দুর্বল এবং বর্ণগতভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে যারা আসক্তি এবং গৃহহীনতায় আক্রান্ত তাদের সাহায্য করার জন্য নিবেদিত একটি দাতব্য সম্প্রদায় সংস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে খাদ্য ব্যাঙ্ক সংগঠিত করা এবং অভাবী জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যবহৃত কাপড় এবং শীতবস্ত্র প্রদান করা । এই মহৎ দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা হিসেবে, এসবিসিএ গত ১১ মে ওয়াটারলু অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসরত প্রায় ২০০ জন ব্যক্তিকে পুষ্টিকর গরম খাবার সরবরাহ করে আন্তরিকভাবে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রগুলো হলো হাউস অফ ফ্রেন্ডশিপ, কেমব্রিজ শেল্টারস কর্পোরেশন, ওয়ান রুফ ইয়ুথ সার্ভিসেস, এবং পেরেন্টস ফর কমিউনিটি লিভিং। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত এসবিসিএ-এর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগটি উদাহরণ তৈরি করেছে কীভাবে একটি স্থানীয় সংস্থা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রান্তিক গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন প্রসারিত করতে পারে ।
এসবিসিএ এর লক্ষ্য শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক ক্ষুধা দূর করাই মাঝেই সীমাবদ্ধ নয় বরং অবহেলিত বা উপেক্ষিত সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থনের ধারনাও বৃদ্ধি করা। ভবিষ্যতে, এসবিসিএ আসক্তি এবং গৃহহীন জনগোষ্ঠীর সাথে কাজ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

