
বিশ্ব এখন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাজেটের ৫ শতাংশে উন্নীত করার ব্যাপারে ন্যাটোর যে লক্ষ্যমাত্রা তা অর্জনে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ালে কানাডা উপকৃত হবে।
তবে ব্যয়ের মাত্রার পরিকল্পনার জন্য সামাজিক লাইসেন্স প্রয়োজন বলে স্বীকার করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশকে ভবিষ্যতে আপোষের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ন্যাটো নেতৃবৃন্দ প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার ব্যাপারে একমত হওয়ার পর এই মন্তব্য করেছেন কার্নি। ন্যাটোর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াতে গিয়ে কানাডাকে হলেথ য়োর ট্র্সাফার হ্রাসের মতো কিছু বিসর্জন দিতে হবে কিনা সাংবাদিকদের এই প্রশ্ন তুলেছিলেন। জবাবে কার্নি বলেন, নতুন হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে কানাডা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, বৃহত্তর নিরাপত্তায় যে বিনিয়োগ করছে তাতে কোনো আপোষ নেই। এগুলো করতে গিয়ে কোনো কিছু আমরা বিসর্জন দিচ্ছি না। এর সামগ্রীক ফলাফল হবে ইতিবাচক। কানাডায় এটা যত ঘটবে, একই সময়ে আমাদের অর্থনীতি তত সুগঠিত হবে। কারণ, এর ফলে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং আমরা এর সুফল পাব।
তিনি বলেন, ২০৩৫ সাল নাগাদ ৫ শতাংশের যে লক্ষ্যমাত্রা বিশ^ সেদিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত আমাদেরকে সম্ভবত আপোষের বিষয়টি ভাবতে হবে। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকার কতটা কম করতে পারে সেই বিবেচেনা আমাদের করতে হবে। এজন্য আমাদের কী পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে বিবেচনা করতে হবে সেটাও।
ন্যাটোর চুক্তি অনুযায়ী, জোটের মিত্ররা জেট ও যুদ্ধবিমানের মতো মূল প্রতিরক্ষা চাহিদা বাবদ বাজেটের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয় করবে। বাকি ১ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয় করবে অবকাঠামোর মতো প্রতিরক্ষা-সমন্বিত খাতে।
কিন্তু চলতি বছর পর্যন্ত কানাডা ন্যাটোর আগের বেঁধে দেওয়া ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণেই হিমশিম খাচ্ছে। কার্নি এ প্রসঙ্গে বলেন, নতুন ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গেলে প্রতিরক্ষা খাতে আমাদের প্রায় দেড় লাখ কোটি ডলার ব্যয় করতে হবে।
ন্যাটোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কানাডা ৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে।

