
ভারতে এক কানাডিয়ানের ব্যাগ লাগেজে কুমিরের মাথা পাওয়ার পর দেশটির শুল্ক কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছেন। তবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।
৩২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি সোমবার যখন নতুন দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ার কানাডা ফ্লাইট এসি ০৫১ এর জন্য অপেক্ষা করছিলেন তখন নিরাপত্তা পরীক্ষা করে কুমিরের মাথাটি পাওয়া যায়। ভারত থেকে তিনি দেশে ফিরছিলেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন শুল্ক কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার দেওয়া ওই পোস্টে দিল্লি কাস্টমস জানিয়েছে, আইজিআই বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় একজন কানাডিয়ান যাত্রীকে থামানো হয়। পরীক্ষার পর একটি শিশু কুমিরের চোয়ালের মতো ধারালো দাঁতসহ খুলি পাওয়া যায়। ক্রিম কালারের একটি কাপড়ে আবৃত এই খুলির ওজন আনুমানিক ৭৭৭ গ্রাম।
শুল্ক কর্মকর্তারা বলেন, ভারতের বন ও বন্যপ্রাণী বিভাগ মাথাটির ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা করে এটা দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের অধীনে সংরক্ষিত একটি কুমিরের মাথা বলে নিশ্চিত হয়েছেন। গঠন, দাঁতের ধরন, সুগঠিত প্যালেট এবং নাসারন্ধ্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এটি একটি শিশু কুমিরের মাথার খুলি। তবে এটা ঠিক কোন প্রজাতির কুমির তা নিশ্চিত আরও পরীক্ষার প্রয়োজন।
কানাডিয়ান ওই ব্যক্তি কর্মকর্তাদের বলেন, তিনি কুমিরটি শিকার বা হত্যা করেননি। তিনি থাইল্যান্ড থেকে এটি কিনেছেন। তবে বন্যপ্রাণী সামগ্রী পরিবহনের জন্য যে বাধ্যতামূলক অনুমতি তা তিনি দেখাতে পারেননি।
কর্মকর্তারা বলেন, ভারতের শুল্ক আইনের ১০৪ ধারা মোতাবেক ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাথাটি বন ও বন্যাপ্রী বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে দিল্লি কাস্টমস বলেছে, বন্যপ্রাণী ও শুল্ক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এটি। এ ধরনের সংরক্ষিত সামগ্রী যাতে পাচার না হয় সেজন্য কাস্টমস ও বন বিভাগের মধ্যে সহযোগিতা নিম্চিত করা জরুরি।
ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে ৩২ বছর বয়সী এক কানাডিয়ান নারীর লাগেজে অচিহ্নিত প্রাণীর শিং পাওয়া যাওয়ার এক বছর পর আরেক কানাডিয়ানকে গ্রেপ্তারের এই ঘটনা ঘটল বলে বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। ওই নারী সে সময় বলেছিলেন, ভারতের উত্তর লাদাখ অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের সময় শিংগুলো পেয়েছিলেন তিনি। স্মারক চিহ্ন হিসেবে এগুলো তিনে দেশে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

