
ঢাকায় অনুষ্ঠেয় আসন্ন ফেব্রুয়ারির একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হতে চলেছে বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাস সম্পাদিত বই ‘কানাডা: বিবিধ প্রসঙ্গ’। ঢাকার অগ্রগণ্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বেহুলাবাংলা প্রকাশিত এই বইতে থাকবে কানাডার ত্রিশটি নির্বাচিত বিষয় নিয়ে ত্রিশজন কানাডিয়ান বাঙালির রচনা।
সারা কানাডার বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী যে বাঙালি লেখকদের রচনায় সমৃদ্ধ এই বই তাঁরা হলেন (বর্ণানুক্রমে) অতনু দাশ গুপ্ত, অসীম ভৌমিক, কাজী হেলাল, চয়ন দাস, জাকারিয়া মুহাম্মদ ময়ীন উদ্দিন, ড. জান্নাতুল নাইম, ড. ঝর্ণা চ্যাটার্জী, তাসমিনা খান, ড. দিলীপ চক্রবর্তী, দেবাঞ্জনা মুখার্জি ভৌমিক, ননীগোপাল দেবনাথ, পূর্বাশা চৌধুরী, প্রতিমা সরকার, মনীষ পাল, মম কাজী, মানসী সাহা, মাহবুব ওসমানী, রতন সাহা, রেশমা মজুমদার শম্পা, রোকসানা পারভীন শিমুল, রোকসানা লেইস, শাহানা আকতার মহুয়া, শেখর ই গোমেজ, শ্রেয়সী বোস দত্ত, সামিনা চৌধুরী, সুশীল কুমার পোদ্দার, সোনালী রায়, স্বপন কুমার দেব, সুজিত কুসুম পাল এবং সুব্রত কুমার দাস। বৃহত্তর টরন্টোর লেখকদের বাইরে এই বইতে যে শহরগুলোর লেখকেরা লিখেছেন সেগুলো হলো ভ্যাঙ্কুভার, অটোয়া, ক্যালগেরি, ওয়াটারলু, হ্যালিফ্যাক্স, ব্রাম্পটন, কিংস্টন প্রভৃতি।
‘কানাডা: বিবিধ প্রসঙ্গ’ বইয়ের ত্রিশ রচনায় যেমন রয়েছে কানাডার ভূগোল এবং ইতিহাস, তেমনি আছে চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং প্রকৌশলগত উন্নতিও। থাকবে কানাডার আদিবাসীদের কথাও। কৃষি ও শিক্ষা নিয়েও রয়েছে আলাপন, যেমন রয়েছে কানাডার সাহিত্য, চিত্রকলা এবং সিনেমা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ রচনা। বাদ যায়নি কানাডার রাজনীতি, গণমাধ্যম ও নারী-অধিকারের প্রসঙ্গও।
উল্লেখ করা যেতে পারে যে, গত বছর ২০ জুলাই কানাডা জার্নালের আয়োজনে কানাডীয় বাঙালি সাহিত্য উৎসবের আয়োজন করা হয়। সে উপলক্ষে কানাডার সর্বাধিক প্রচারিত বাংলা সাপ্তাহিক বাংলামেইল একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছিল। সাহিত্য উৎসবে সেই সংখ্যায় কানাডা নিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রচনা প্রকাশিত হয়। সেই সংখ্যার অতিথি সম্পাদক ছিলেন সুব্রত কুমার দাস। তিনি বাংলামেইলের সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টুকে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
সম্পাদক সুব্রত কুমার দাস আরও জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে কানাডা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থের স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। স্বপ্নটি তিনি পূরণ করতে চেয়েছিলেন পুরো বাঙালি সমাজকে সাথে নিয়ে। শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে চলেছে দেখে তাঁর ভালো লাগছে। সেই স্বপ্ন পূরণে সারা কানাডার যে বাঙালি লেখকেরা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কানাডার উদ্যমী এই বাঙালি লেখক।
বইতে যে প্রবন্ধগুলো থাকবে সেগুলো হলো, কানাডার শিক্ষাব্যবস্থা, কানাডার আদ্যন্ত, কানাডার আদিবাসী জনগণ: সত্য উদঘাটন ও পুনর্মিলন, কানাডীয় সাহিত্য বা ক্যানলিট, কানাডায় নারী অধিকার, কানাডার রাজনীতি নিয়ে বেলা-অঞ্জন সংলাপ, কানাডা: রূপালী সৌন্দর্যের দেশ, ষড়ভুজের মণ্ডল কানাডা, সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ব, কানাডার কৃষি, কানাডার গণমাধ্যম, কানাডায় বিজ্ঞান: কিছু কথা, ভুল শরীরে বসবাস, জীবনের অন্তিম লগনে, পৃথিবীর পশ্চিম গগনে, কানাডার শিল্পী ও শিল্পকলা: সেকাল ও একাল, কানাডার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা এবং অর্জনসমূহ, কানাডা ও ইংরেজি, কানাডীয় শিক্ষাব্যবস্থা – প্রাথমিক স্কুল, কানাডার প্রকৌশল, কারিগরী ও প্রযুক্তি উন্নয়নের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, কানাডার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, কানাডিয়ান ফুল উৎসব: প্রকৃতির রঙের মেলা, কানাডা আমার দেশ, কানাডায় মানবাধিকার: চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণ, কানাডীয় চলচ্চিত্র, কানাডায় সাহিত্য উৎসব, রূপকথা আর সাহিত্যে কানাডার ফুল, কানাডায় একাকীত্ব: এক নিরব মহামারী, কানাডায় সুরসঙ্গম, কানাডাতে সাম্প্রতিক অভিবাসন ও নানাবিধ সমস্যা, টেরামেশন অন্ত্যেষ্টিকরণ।
সুব্রত বলেন, এই বই যেমন হতে পারে কানাডায় অভিবাসী যে কোনো বাঙালির এক আবশ্যিক পাঠ তেমনি কানাডা নিয়ে আগ্রহী বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা যে কোনো বাঙালি পাঠকের জন্য এই বই রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

