Latest Posts

জলবায়ু অর্থায়নে সরকারি তহবিলের প্রণোদনায় বেসরকারি বিনিয়োগের উত্থান

- Advertisement -
ক্লাইমেট অ্যান্ড নেচার সলিউশন্সের প্রধান নির্বাহী ও কানাডার সাবেক পরিবেশমন্ত্রী ক্যাথেরিন ম্যাককেনা বাংলামেইলকে বলেন, “সরকারি উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশও পৌঁছাচ্ছে না। তাই আমাদের সৃজনশীল হতে হবে

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো যেখানে জলবায়ুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি সেখানে ক্ষতি মোকাবিলা ও অভিযোজনের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু এই অর্থের উৎস কোথা থেকে আসবে, তা এখন আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নতুন অঙ্গীকার করেছে ২০৩৫ সালের মধ্যে যৌথভাবে অন্তত ৩০ হাজার কোটি ডলার জলবায়ু অর্থায়নের জন্য সংস্থান করা হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা হলো, শুধুমাত্র সরকারি তহবিলের ওপর নির্ভর করে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। এখন প্রয়োজন সরকারি তহবিলকে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবহার করার কার্যকরী কাঠামো।

- Advertisement -

ক্লাইমেট অ্যান্ড নেচার সলিউশন্সের প্রধান নির্বাহী ও কানাডার সাবেক পরিবেশমন্ত্রী ক্যাথেরিন ম্যাককেনা বাংলামেইলকে বলেন, “সরকারি উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশও পৌঁছাচ্ছে না। তাই আমাদের সৃজনশীল হতে হবে। সরকারি তহবিলকে এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে যাতে তা বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে।”

তিনি আরও বলেন, ব্র্যান্ডেড বা মিশ্র অর্থায়ন (Blended Finance) হলো এমন একটি কাঠামো, যেখানে সামান্য সরকারি সহায়তা বড় পরিমাণের বেসরকারি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে পারে। এটি শুধু অর্থ সংগ্রহের নতুন পদ্ধতি নয়, বরং উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জলবায়ু সহনশীল পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি বাস্তবসম্মত কৌশল।

মিশ্র অর্থায়ন মডেলে, সরকার ঝুঁকির একটি অংশ বহন করে। ফলে যারা আগে জলবায়ু-সম্পর্কিত প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে অনীহা প্রকাশ করতেন, তারা এখন বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার মতো অঞ্চলে এই মডেল ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

কানাডার সরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফিনডেভ কানাডা সম্প্রতি এই ধরনের একটি উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্থাটি মিটসুবিশি ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের সঙ্গে যৌথভাবে ১৫০ কোটি ডলারের তহবিল গঠন করেছে, যা ২৫টি উন্নয়নশীল দেশে বিনিয়োগ করবে। তহবিল পরিচালনা করবে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ইনভেস্টমেন্ট টিম।

ফিনডেভের প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো, সরকারি অর্থের সামান্য প্রণোদনার মাধ্যমে বেসরকারি ব্যাংক, করপোরেশন ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জলবায়ু প্রকল্পে যুক্ত করা। প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি, টেকসই কৃষি ও জলাভূমি সংরক্ষণ।

ম্যাককেনা বলেন, “উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ব্যবসার পরিবেশ কঠিন। ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা দূরে থাকেন। কিন্তু যদি সরকার ঝুঁকির একটি অংশ বহন করে, তাহলে এই দেশগুলোতে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হয়।”

বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং ওআইসিডি’র হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ডলারের সরকারি তহবিলের বিপরীতে বেসরকারি খাত গড়ে মাত্র ১৫ সেন্ট বিনিয়োগ করছে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও জলবায়ু প্রকল্পে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবধান কমানো না গেলে বৈশ্বিক জলবায়ু লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব।

বাংলামেইলের অনুসন্ধানে জানা গেছে, কানাডা সরকার ইতোমধ্যে তার ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট ফাইন্যান্স ফান্ডের আওতায় প্রায় ৫০০ কোটি ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। এর একটি বড় অংশ বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।

জলবায়ু নীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহারই মূল চাবিকাঠি। শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং বেসরকারি খাতকে সক্রিয় অংশীদার করে তোলা এখন অত্যাবশ্যক। একজন আন্তর্জাতিক নীতি বিশেষজ্ঞ বাংলামেইলকে বলেছেন, “অর্থের সংকট যত বড় সমস্যা, তার চেয়েও বড় সমস্যা হলো অর্থের সঠিক ব্যবহার। সরকারি তহবিলকে প্রলুব্ধকর বিনিয়োগ কাঠামোতে রূপান্তরিত করতে পারলেই আমরা সত্যিকারের পরিবর্তন দেখতে পাব।”

বিশ্ব জলবায়ু অর্থায়নের এই নতুন ধারায় কানাডা এখন অন্যতম অগ্রণী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। এখানে সরকারি সহায়তা শুধু অনুদান নয়, বরং বেসরকারি পুঁজি টানার অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। এই মডেল বৈশ্বিক জলবায়ু আন্দোলনে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে।

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.