
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি রক্ষার লক্ষ্যে ব্র্যাম্পটন সিটি কাউন্সিল নতুন এক যুগান্তকারী আইন অনুমোদন করেছে। বুধবার অনুষ্ঠিত কাউন্সিল সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হওয়া এই বাইল অনুযায়ী, শহরের কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ের ১০০ মিটারের মধ্যে বিক্ষোভ, সমাবেশ বা প্রতিবাদমূলক কোনো কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
ব্র্যাম্পটনের মেয়র প্যাট্রিক ব্রাউন বাংলামেইলকে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার যে কোনো ব্যক্তি মসজিদ, মন্দির, গুরুদুয়ারা বা সিনাগগে প্রার্থনা করার সময় নিরাপদ থাকুক এবং সহিংসতা বা ভয়ের মুখোমুখি না হোক। ধর্মীয় স্বাধীনতা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার, এবং সেই অধিকার সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব আমাদের সিটি প্রশাসনের।”
নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন উপাসনালয়ের নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বিক্ষোভ, ধ্বনিবিক্ষোভ, পোস্টার প্রদর্শন বা উস্কানিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ৫০০ ডলার থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হবে। প্রয়োজনে পুলিশ এবং প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে।
সিটি কাউন্সিলর পল ভিসেন্তে বলেন, “আমরা নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু যখন কারও ধর্মীয় উপাসনার অধিকার লঙ্ঘিত হয়, তখন সেটা আর স্বাধীন মতপ্রকাশ নয়, বরং সামাজিক অস্থিরতার উৎস হয়ে দাঁড়ায়। ব্র্যাম্পটন এমন আচরণ কখনোই বরদাশত করবে না।”
গত কয়েক মাসে পিল রিজিয়ন জুড়ে বেশ কয়েকটি ধর্মীয় স্থানের বাইরে সংঘর্ষ ও উস্কানিমূলক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ৩ নভেম্বর গোর রোডের হিন্দু সভা মন্দিরের বাইরে এক বিক্ষোভের সময় অংশগ্রহণকারীদের লাঠি ও পতাকা হাতে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় দেখা যায়। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঐ ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্তে দায়িত্বরত একজন পুলিশ কর্মকর্তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, ধর্মীয় স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও নজরদারিতে শহর প্রশাসন প্রায় ৪ লাখ ডলার ব্যয় করেছে।
সিটি প্রশাসন জানিয়েছে, এই আইন কারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার জন্য নয়, বরং সকল ধর্মাবলম্বীর নিরাপদ উপাসনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ। ব্র্যাম্পটনে প্রায় ২০০টির বেশি ধর্মীয় উপাসনালয় রয়েছে, যার মধ্যে মসজিদ, মন্দির, গুরুদুয়ারা ও চার্চ উল্লেখযোগ্য। এই সব প্রতিষ্ঠান শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সিটি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে নতুন বাইল সম্পর্কে অবহিত করেছে এবং প্রয়োজনে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে। নাগরিকদের কাছ থেকেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তারা কোনো প্রকার উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বা সহিংসতার দিকে যাবে না।
মেয়র প্যাট্রিক ব্রাউন বলেন, “আমরা এমন একটি শহর গড়ে তুলতে চাই যেখানে ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষ একসঙ্গে নিরাপদে বসবাস ও উপাসনা করতে পারে। এই আইন কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি শান্তি ও সহনশীলতার প্রতিশ্রুতি।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্র্যাম্পটনের এই পদক্ষেপ বহুসংস্কৃতির শহরগুলোর জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। ধর্মীয় স্থানগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা শহরের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

