
গত মাসের দাবানলে আলবার্টার জ্যাস্পারের যেসব বাসিন্দা ঘর-বাড়ি হারিয়েছেন তা পুনর্নিমাণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তারা। এই চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে বহু পুরোনো লিজিং ব্যবস্থার কারণে। পাশাপাশি তারা কী নির্মাণ করতে পারবে ও কী পারবে না সে সংক্রান্ত আধুনিক আইন-কানুনও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।
আইনজীবী জেসিকা রিড বলেন, অন্যান্য মিউনিসিপালিটির মতো জ্যাস্পার ন্যাশনাল পার্কের ট্রাউনসাইটে যারা বাড়ির মালিক তারা কেউই জমির মালিক নন। এই জমির প্রকৃত মালিক রাজা স্বয়ং।
এর অর্থ হলো ন্যাশনাল পার্কের অভ্যন্তরে অবস্থিত অন্যান্য মিউনিসিপালিটির মতো জ্যাস্পারের বাড়ির মালিকরা কেবল লিজগ্রহীতা। কারিগরিভাবে তারা তাদের নিজেদের বাড়ির মালিকও নন। কারণ, ভবনও এই লিজের অংশ।
কানাডা ন্যাশনাল পার্কস আইন অনুযায়ী, এই লিজ হয়ে থাকে সাধারণত ৪২ বছর মেয়াদী। যদিও কিছু লিজ তার চেয়ে কমও হয় এবং লিজ নবায়নের জন্য দর-কষাকষির প্রয়োজন পড়ে।
রিড বলেন, এটা এরই মধ্যে জ্যাস্পারের বাসিন্দাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, মর্টগেজের মেয়াদের চেয়ে লিজের মেয়াদ কম হলে কখনো কখনো ব্যাংক মর্টগেজ দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। পাঁচ হাজার মানুষ অধ্যুষিত টাউনটির ৩৫৮টি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই সমস্যা আরও বড় হিসেবে দেখা দিতে পারে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই লিজ পুনর্নির্মাণ উদ্যোগকে ব্যাহত করতে পারে এবং সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
২২ জুলাই রাতে বাসিন্দা ও পার্কের সব দর্শকদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। আগুন নিভে গেলেও তারা এখনো বাইরেই রয়ে গেছেন এবং ক্রুরা এখনো আগুনের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন।
যারা বাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে চান না তারাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে জানান রিড। বাড়ি পুনর্নির্মাণ এবং লিজের বিষয়ে জানতে পার্কস কানাডা এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে ইমেইল পাঠানো হলেও কেউই তাতে সাড়া দেয়নি।

