
দোষী প্রমাণিত হওয়ার পরও অ্যালিস মুনরোর কন্যার ওপর জেরাল্ড ফ্রেমলিনের যৌন হয়রানির ঘটনাটি এখনো অপ্রকাশিত থাকার অন্যতম কারণ লেখকের সুনাম রক্ষার করার আকাক্সক্ষা। এমনটাই বলেছেন অ্যালিস মুনরোর স্বামীর মামলা পরিচালনাকারী সাবেক এক ক্রাউন অ্যাটর্নি।
রবার্ট মরিস এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ২০০৫ সালের শুরুর দিকে অন্টারিওর গোডরিচ আদালত ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ফ্রেমলিনের মামলটি এতোটাই দ্রুত গতিতে এগিয়েছিল যে, তা জনগণের দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে পারত।
মুনরোর ছোট মেয়ে আন্দ্রিয়া রবিন স্কিনার টরনোটা স্টারের কাছে যখন এই কথা ফাঁস করে দেন যে, নির্যাতনের বিষয়টি জানার পরও তার মা যখন ফ্রেমলিনের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন তখন অনেকেই এই ভেবে অবাক হন যে কেন গল্পটি এতোদিন ধরে গোপন থেকে গেছে।
১৯৭৬ সালে একটি অশোভন আচরণের ব্যাপারে ফ্রেমলিনের দোষ স্বীকারের বিষয়টি উল্লেখ করে মরিস বলেন, বহু মানুষই ওই ঘটনাটি জানেন না।
বর্তমানে গোডরিচের ডিফেন্স আইনজীবী মরিস এটা মনে করেছিলেন এই কারণে যে, তার স্বামী একজন যৌন নিপীড়ক এটা সামনে আনার মধ্য দিয়ে মুনরো তার পরিবারের সুনাম নষ্ট করতে চাননি। আমার মাথায় কেবল এই চিন্তা এসেছিল যে, প্রত্যেকেই মাকে রক্ষা করছিলেন। যেভাবে বিষয়টি পরিচালনা করা হচ্ছিল তাতে তার কন্যা খুশি ছিলেন না। কিন্তু মুনরো ফৌজদারি অপরাধমূলক কিছু করেননি।
জুনের গোড়ার দিকে প্রকাশিত এক নিবন্ধে স্কিনার লিখেছেন, তার বয়স যখন ৯ বছর তখন থেকে ফ্রেমলিন তাকে যৌন হয়রানি করতে শুরু করেন। গোডরিচ থেকে খুব দূরে নয় এমন ছোট শহর ক্লিন্টনে ফ্রেমলিন যখন তার মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসতেন তখন থেকে।
স্কিনার যখন তার মাকে নির্যাতনের বিষয়টি জানান তখন তার বয়স ছিল বিশের কোঠায়। কিন্তু মুনরো ফ্রেমলিনের পক্ষ নেন এবং তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সঙ্গে বিয়েটা টিকিয়ে রাখেন। এভাবেই স্কিনার লেখেন কীভাবে তার শৈশবের ট্রমা দশকের পর দশ ধরে পারিবারিক গোপন বিষয় হয়ে রয়ে যায়।
স্কিনার লিখেছেন, তার বাবা অর্থাৎ মুনরোর প্রথম স্বামী কখনোই তাকে রক্ষার কাজ করেননি এবং তার নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মায়ের খ্যাতির অর্থ হয়ে দাঁড়ায় অব্যাহত নীরবতা।
মরিস বলেন, ফ্রেমলিনের মামলাটি শুরু হয় প্রাদেশিক আদালতে, যেখানে ২০০৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রাথমিক শুনানি থেকে অব্যাহতি নেন এবং সুপিরিয়র কোর্টে এককভাবে একজন বিচারক তার মামলাটি শোনেন। সেখানে কোনো বিচার হয় না এবং এর চার সপ্তাহ পর ২০০৫ সালের ১১ মার্চ উচ্চ আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করেন। সব কিছু এত দ্রুত ঘটে যাওয়াটা অস্বাভাবিক।

