
গত ১ জুন টরোন্টোতে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের দুইটি ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলিক্রস ও সেন্ট জোসেফের পুনর্মিলনী -২০২৪। উল্লেখ্য এবারেই প্রথমবারের মতো এই দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক সাথে এমন একটি মিলনমেলার আয়োজন করেছে। টরন্টো সহ মন্ট্রিয়েল, কুইবেক এবং আমেরিকা থেকে হলিক্রস ও সেন্ট জোসেফের প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রীদের অংশগ্রহণে মুহূর্তেই সেন্ট ক্লিমেন্ট চার্চের মিলনায়তনটি মুখরিত হয়ে উঠে।
৫.৩০ মিনিটে রেজিস্ট্রেশন শুরু হয় এবং ঠিক সন্ধ্যে ৬.৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়োজনটি শুরু হয়। সেন্ট জোসেফ থেকে জুনায়েদ হারুন এবং হলিক্রস থেকে তাসমিনা আইরিন ঝিনুকের স্বাগতিক বক্তব্যের মাধ্যমে মূল আয়োজনের সূচনা হয়। বিগত বছরগুলোতে এই দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যে সকল ছাত্র ছাত্রীরা না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তাদের স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। জাতীয় সংগীত এবং হলিক্রসের “কলেজ Song “-এর পরপরেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীরা ব্যস্ত হয়ে উঠেন নেটওয়ার্কিং-এ। আয়োজনে ১৯৬০ সাল থেকে ২০১৩ সালের ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। এই মিলনমেলার একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল দুই স্কুলের বেশ কয়েকজন সম্মানিত শিক্ষক শিক্ষিকার উপস্থিতি। তাঁদের পেয়ে ছাত্র ছাত্রীরা মুহূর্তেই ২০২৪ সালের গন্ডি পেরিয়ে ফেলে আসা দিনগুলিতে স্কুলের বাউন্ডারিতে প্রবেশ করে। শিক্ষক শিক্ষিকারাও তাঁদের পুরোনো ছাত্র ছাত্রীদের পেয়ে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করেন, শুরু হয় নানারকম স্মৃতিবিজড়িত স্কুলের গল্প। শিক্ষকদের মধ্যে সেন্ট জেসেফ থেকে রেহানা বেগম, ম্যাথিউ মেন্ডেজ ও ব্রাদার নিকোলাস টিলম্যান এবং হলিক্রস থেকে সেলিনা পারভীন রহমান, ফৌজিয়া সুলতানা হাসান ও জ্যাকুলিন রোজারিও বক্তব্য রাখেন।
সাংস্কৃতিক আয়োজনে নৃত্যপরিবেশন করেন হলিক্রস স্কুল থেকে গুণী নৃত্যশিল্পী উর্মি নুসরাত, এঞ্জেলা এবং এঞ্জেলিনা। প্রশংসিত হয় হলিক্রসের প্রাক্তন ছাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি নতুন ধারার ফ্যাশন শো। অনুষ্ঠানে অতিথি শিল্পী হিসাবে সংগীত পরিবেশন করেন উইনিং ব্যান্ড খ্যাত গুণী সংগীত শিল্পী চন্দন। ফেলে আসা দিনগুলোর স্মরণীয় সব গানের মাঝে সবাই নস্টালজিক হয়ে উঠেন । এর পরে নৈশভোজের পর্ব শেষে মঞ্চে গানের ঝড় তুলতে আসেন টরন্টোর আরেকজন গুণী গায়ক তপু তার ব্যান্ড “ঝড় “-কে নিয়ে। একের পর এক ব্যান্ডের গানের মাঝে সবাই তখন কণ্ঠ মেলাতে শুরু করেন এবং ডান্স ফ্লোরটি জমজমাট হয়ে উঠে সবার স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণে। মধ্যরাত অবধি আয়োজনটি মুখরিত ছিল হলিক্রস ও সেন্ট জোসেফের প্রাক্তন শিক্ষক- শিক্ষিকা ও ছাত্র ছাত্রীদের পদচারণায়।
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন সেন্ট জোসেফ থেকে আশিক বিশ্বাস ও জুনায়েদ হারুন এবং হলিক্রস থেকে মেরি মৌ রোজারিও ও জুলিয়ানা রিনি। পুরো সময় জুড়ে শব্দ নিয়ন্ত্রণে ডানফোর্থ সাউন্ড সুদক্ষ পারদর্শিতার প্রমান দিয়েছে।
দীর্ঘ কয়েকটি মাস ধরে প্রস্তুতি চলে আয়োজনটির এবং এমন একটি আনন্দঘন আন্তরিকতায় পূর্ন আবেগময় একটি মিলনমেলার জন্ম দেয়। এই আয়োজনটির কনভেনরের দায়িত্ব পালন করেছেন সেন্ট জোসেফের প্রাক্তন ছাত্র আনোয়ার কবির (মিলু) এবং হলিক্রসের প্রাক্তন ছাত্রী তাসমিনা আইরিন ঝিনুক। অনুষ্ঠানটিতে আর্থিক সহায়তা দিয়ে যারা পাশে ছিলেন তারা হলেন ব্যারিস্টার চয়নিকা দত্ত , শিপন হাওলাদার, RCIC সামিন আথার, ব্যারিস্টার আরিফ হোসেন, নাফিজ হোসেন, সাকিব আলম এবং জামিল ইমরান, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয় তাদের প্রতি।
পুনর্মিলনীটি সাফল্যমণ্ডিত করতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তারা হলেন আনোয়ারুল কবীর (মিলু ), জুনায়েদ হারুন, নাফিজ হোসেন, ড্যানিয়েল হাকিম, শিবলী চৌধুরী, শামীম চৌধুরী, শরিফুল ইসলাম, সাদিয়া আফরিন, সাদ্দাম হোসেন, মেরি মৌ রোজারিও, পিটার ডিত্রুজ এবং ভার্জিল রড্রিক্স। ব্যস্ত প্রবাস জীবনে শত কাজের ভিড়ে ভবিষ্যতে এমন আয়োজনে আবারো সবাই কালের খেয়ায় হারিয়ে যাবে এক হয়ে – এমনটা ভেবেই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়।

