শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪
15.5 C
Toronto

Latest Posts

প্রশংসার জোয়ারে ভাসছে ৭ম বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল

- Advertisement -

গত ১৮ মে শনিবার জাকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো কানাডার বাংলাদেশি কমিউনিটির সর্ববৃহৎ ইনডোর ইভেন্ট ৭ম বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল। রেগুলেটেড ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট তানভীর নাওয়াজ প্রেজেন্টস এবং কানাডার সর্বাধিক পঠিত বাংলা সংবাদপত্র বাংলামেইল আয়োজিত বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে হাজারেরও বেশি দর্শকের উপচে পড়া ভিড় ছিলো বরাবরের মতোই। অনুষ্ঠানের তিন সপ্তাহ আগেই টিকেট ফুরিয়ে যায়। পুরো শহর জুড়ে চলে একধরনের আনন্দময় উত্তেজনা। অবশেষে ১৮ মে সন্ধ্যা ৬টায় মিলনায়তন ভর্তি দর্শকের উপস্থিতিতে শুরু হয় ৭ম বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল-এর আয়োজন।

- Advertisement -

অনুষ্ঠানের শুরুতেই এনআরবি টিভির দুই জনপ্রিয় মুখ অজন্তা চৌধুরী এবং মাহবুব ওসমানী আন্তরিকতার সাথে উপস্থিত দর্শকদের সাদর আমন্ত্রণ জানান। বিপুল করতালির মাধ্যমে শুরু হয় আয়োজন। শুরুতেই মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় “ল্যান্ড একনোলেজমেন্ট ” এর জন্য পরবর্তী প্রজন্মের একজন নির্জলা প্রিয়দর্শিনীকে। এর পরে পিনপতন নীরবতায় কানাডা ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত বেজে উঠে এবং এ সময় উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর শুভেচ্ছাবার্তা পাঠ করে জারাহ এবং অন্টারিও প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডের শুভেচ্ছাবার্তা পাঠ করে অনন্ত।৭ম বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন টরন্টোস্থ বাংলাদেশ কনসুলেটের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, ডলি বেগম এমপিপি, টরন্টো পুলিশের সাউথ এশিয়ান লিয়াজো অফিসার হারুন সিদ্দিকী, রেগুলেটেড ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট তানভীর নাওয়াজ, বিশিষ্ট রিয়েলটর মোহাম্মদ সুরুজ্জামান, বিশিষ্ট রিয়েলটর আব্দুল আউয়াল, বিশিষ্ট রিয়েলটর আকমল সরকার, কানাডা ন্যাশনাল কনস্ট্রাকশন ইনকের সিইও মোহাম্মদ হাসান, মর্টগেজ এজেন্ট আনিসুর রহমান, ইমিগ্রেশন কনস্যালট্যান্ট আনিকা স্যাফায়ার, ব্যারিস্টার জাকির হোসেন সরকার, ৭ম বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের চেয়ারম্যান ও বাংলামেইল প্রকাশক রেজাউল কবীর, এনআরবি টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হালিম মিয়া এবং এনআরবি টিভির সিইও ও বাংলামেইল সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টু।

পরবর্তী পর্বে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। মঞ্চ আলোকিত করতে আসেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ হাওলাদার। সম্মাননা ক্রেস্ট তার হাতে তুলে দেন টরন্টোস্থ বাংলাদেশ কনসুলেটের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ ফারুক হোসেন।

এর পরে শুরু হয় টরন্টোর গুণী শিল্পীদের পরিবেশনা। নৃত্যের তালে নৃত্যকলা কেন্দ্রের দুইটি পরিবেশনা প্রশংসা লাভ করে। নৃত্যগুরু বিপ্লব কর-এর কোরিওগ্রাফিতে অংশ নেন নৃত্যকলা কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা। সংগীত পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন গুণী শিল্পী তাসমিনা খান, রুবেন ইউসুফ, সূচনা বৈশাখী ও শমিত বড়ুয়া। পিনপতন নিরবতায় বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী শেখর গোমেজের পরিবেশনায় দর্শক ছিলেন মুগ্ধ।

বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালকে ঘিরে ধারাভাষ্যকার মাসুদ করিমের ভিন্ন ধারার পরিবেশনা ছিল দারুন উপভোগ্য।

এরপর শেষ হয় দর্শকদের অপেক্ষার পালা। মঞ্চে আসেন বাংলা ব্যান্ডসংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তী শাফিন আহমেদ। টানা সোয়া দুইঘন্টার পরিবেশনায় ঝড় তোলেন টরন্টো প্যাভিলিয়নে। একের পর এক পরিবেশন করেন জনপ্রিয় সব গান। শাফিন আহমেদকে এনআরবি এ্যাওয়ার্ড ২০২৪ প্রদান করেন টরন্টো সিটি মেয়র অলিভিয়া চাউ।

শিল্পীর সাথে যারা যন্ত্রশিল্পী ছিলেন তারা হলেন লিড গিটার : আবীর, ড্রামস এবং অক্টোপ্যাড : সৌরভ ধ্রুব, কীবোর্ড : মেহেদী ফারুক ও ডিজে রাহাত। শব্দ নিয়ন্ত্রণে দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন ডানফোর্থ সাউন্ড এর নেপথ্যে শমী সাত্তার ও রিংকো। সাংস্কৃতিক আয়োজনের সমন্বয়কারি হিসাবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন স্বপ্না দাস।

টরন্টোতে বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল এখন বাংলা ভাষাভাষীদের এক সর্ববৃহৎ মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বাংলামেইল সম্পাদক ও এনআরবি টিভির সিইও, বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল ইসলাম মিন্টু জানান, বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের সাফল্যের পেছনে শুধুই রয়েছে দর্শক-শ্রোতাদের ভালোবাসা এবং আস্থা। তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন উপস্থিত দর্শক শ্রোতা এবং সাথে আত্মনিবেদিত স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের প্রতি, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের এবারের আয়োজন সফল হয়েছে। শহরে প্রশংসার জোয়ারে ভাসছে বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল।

টরোন্টোবাসীদের অপেক্ষা এখন আগামী বছর ৮ম বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল-এর জন্য। আরো জাকজমকপূর্ণভাবে আসছে ৮ম বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল ।

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.