
ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোতে (ইউঅ্যান্ডটি) ফিলিস্তিনপন্থীদের তাঁবু গাঁড়া তিন সপ্তাহে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসনের সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে নজরদারি নিয়ে।
আয়োজকরা বলেছেন, কিং’স কলেজ সার্কেলে স্থাপন করা তাঁবুর দিকে সরাসরি তাক করে রাখা ক্যামেরা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। বিক্ষোভকারীদের ওপর নজর রাখতে সম্প্রতি এগুলো বসানো হয়েছে বলে দাবি তাদের।
বিশ^বিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ক্যালিয়পে আনভার ম্যাককল বলেন, বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সক্রিয়ভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি করছে এবং এ ব্যাপারে অব্যাহতভাবে মিথ্যাচার করছে। একই সঙ্গে তারা টরন্টো পুলিশ সার্ভিসের সঙ্গেও কাজ করছে।
চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী অভি বলেন, আপনি যদি যান তাহলে দেখবেন একটি ক্যামেরা সরাসরি তাঁবুর দিকে তাক করে বসানো। ক্যামেরাটির সঙ্গে মাইক্রোফোনও রয়েছে। এটা অডিও এবং ভিডিও সার্ভিল্যান্সে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে আমাদের বিশ^াস।
বিশ^বিদ্যালয় এবং টরন্টো পুলিশ উভয়েই বলেছে, বিক্ষোভকারীদের গতিবিধির ওপর কোনো ধরনের নজরদারি করা হচ্ছে না।
বিশ^বিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার স্বাভাবিক চর্চা হিসেবে সব ধরনের ভিডিও ইকুইপমেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে রয়েছে। সেভাবেই এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহে বিশ^বিদ্যালয় ও টরন্টো পুলিশ এর সঙ্গে নতুন কিছু যোগ করেনি। কোনা ইকুইপমেন্টই অডিও ধারণ করছে না এবং বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নজরদারির জন্য কোনো ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে না।
তাঁবুর দক্ষিণ প্রান্তের একটি ক্যামেরা নিয়ে বিশেষত এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে বলেছে, বেশ কয়েক বছর আগে সেটি বসানো হয়েছে এবং ওই অঞ্চলে এখনো কার্যরত একটি নির্মাণ কোম্পানি এর মালিক।
টরন্টো পুলিশ বলেছে, নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ না দেখা দেওয়া পর্যন্ত তাঁবু সংশ্লিষ্টতা হবে কেবলমাত্র বিশ^বিদ্যালয়ের অনুরোধের ভিত্তিতে।
তবে তাঁবুর আয়োজকরা পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ এনেছেন। তাদের দাবি, এই নজরদারি তাদের ব্যক্তি গোপনীয়তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার খেলাপ।

