
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাজ্য ও কানাডার মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধন ও দীর্ঘ কাজের সম্পর্ক কেবল অতীতের প্রতিফলন নয়, এই সময়েও তা অত্যন্ত জরুরি। শনিবার তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্টারমার বলেন, এই দুই কমনওয়েলথ সদস্যের চিন্তা ও কাজে সাদৃশ্য রয়েছে। নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তারা বহু বছর ধরে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে আসছে।
জি৭ সম্মেলনে যোগ দিতে আলবার্টায় যাওয়ার প্রাক্কালে শনিবার অটোয়াতে বৈঠক করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বৈঠকের ব্যাপারে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে উত্তেজনাসহ ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জসমূহ নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়ো-ম্যানুফ্যাকচারিং, পরমাণু শক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মতো বেশি কিছু অর্থনৈতিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করবে উভয় দেশ। পাশাপাশি কানাডা এবং যুক্তরাজ্য পারস্পরিক সহযোগিতা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে। এই সহযোগিতা হবে দ্বিপাক্ষিকভাবে এবং ন্যাটো জোট ও ফাইভ আই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে, যাতে করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুরক্ষিত হয় এবং বৈশি^ক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। উভয় দেশ সামরিক ও গোয়েন্দা সংক্রান্ত সহযোগিতাও গভীর করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। সেই সঙ্গে জাতীয় নিনরাপত্তায় হুমকি মোকাবিলা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা শক্তিশালী করার যৌথ উদ্যোগের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দেশ দুটি।
স্টারমার সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত জি৭ সম্মেলনের প্রধান বিষয় হবে। উত্তেজনা দূরীকরণে বৈশি^ক নেতাদের সুযোগ করে দেবে এই সম্মেলন।
ব্যাংক ইংল্যান্ডের সাবেক গভর্নর কার্নি বলেন, তিনি স্টারমারের একজন অনুরাগী এবং গত কয়েক বছরে তিনি তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন।
স্টারমার শনিবার রিডো কটেজে কার্নির সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন। পরে এডমন্টন অয়েলার্স এবং ফ্লোরিডা প্যান্থারের মধ্যকার হকি খেলা উপভোগ করেন।

