
ভূমধ্যসাগরে রেসিংয়ের সময় হারিয়ে যাওয়া একটি পাখি কানাডার নোভা স্কশিয়ায় অবতরণ করেছে। এমনটাই মনে করেন একজন স্প্যানিশ পিজিয়ন কিপার। এ ঘটনায় তিনি বিস্মিতও হয়েছেন।
ডেভিড ফার্নান্দেজ ২২ ফেব্রুয়ারি মালোর্কাতে তার বাড়ি থেকে ১৮টি পায়রা নিয়ে ইবিজায় যান। সেখান থেকে পায়রাগুলোর ১২৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ফিরে আসার কথা ছিল। দিনটি ছিল রৌদ্রকরোজ্জ্বল। এবং ৯৯৫০ নাম্বারযুক্ত পায়রাটির প্রথম রেস।
একটি বাদে তার সবগুলো পায়রা প্রায় দুবই ঘণ্টার মধ্যে তদের আস্তানায় ফিরে আসে। ৯৯৫০ নাম্বারযুক্ত পায়রাটি ফিরে না আসায় তিনি মনে করেছিলেন, আট মাস বয়সী পাথিটি হয়তো চিল-শকুনের খাবারে পরিণত হয়েছে। মালোর্কা থেকে গত সপ্তাহে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওইদিন পায়রাটি চিলের বড় ধরনের আক্রমণের শিকার হয় বলে মনে হয়েছিল।
এ ঘটনার এক মাস পর ফার্নান্দেজ পার্কস কানাডার কর্মী ক্রিস্টিনা পেনের কাছ থেকে একটি ইমেইল পান। ইমেইলে নোভা স্কশিয়া উপকূল থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে সেবল আাইল্যান্ডে একটি পায়রা খুঁজে পাওয়ার কথা জানানো হয়। এই দ্বীপে পায়রা কদাচিৎ দেখা যায়। এটির পরিচিতি মূলত বন্য ঘোড়ার জন্য এবং অল্প কিছু গবেষক ও পার্কস কর্মী এখানে বসবাস করেন।
পায়রাটির পায়ে দুটি ব্যান্ড ছিল, যা এটির উৎপত্তিস্থল যে স্পেন সেই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিছুটা খোজ খবর নিয়ে পেন নিশ্চিত হন যে ফার্নান্দেজ এর মালিক। ফার্নান্দেজ বলেন, কোনো পায়রার পক্ষে মালোর্কা থেকে ৫ হাজার ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সেবল আইল্যান্ডে পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন না। তার ধারণা, পাখিটি কোনো কার্গো জাহাজে আশ্রয় নিয়েছিল। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো এর টিকে থাকার ক্ষমতা।
পাখিটি স্পেনে ফেরত পাঠাতে কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণ বেশ কঠিন। তাই স্প্যানিশ পায়রাটি পাখি সম্পর্কে লোকজনকে সচেতন করতে সহায়তা করতে পারে। ফার্নান্দেজও বলেন, পাখিটির কানাডায় অবস্থানের কোনো বিরোধিতা তিনি করবেন না।

