
গণহত্যা প্রমাণের জন্য যে সর্বনিম্ন যে আইনি শর্ত রয়েছে তা অনেক উঁচু মানের বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি। যদিও জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দায়ের করা দক্ষিণ আফ্রিকার মামলার পক্ষে বা বিপক্ষে পরিস্কার অবস্থান নেয়নি কানাডা।
১২ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে জোলি বলেছেন, ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলাটির ওপর আমরা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নজর রাখব।
অন্য দেশগুলো মামলার বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করার পর এই মন্তব্য করলেন জোলি।
দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবীরা ১১ জানুয়ারি আদালতে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, গাজা ভূখন্ডে ইসরায়েলের বোমা বর্ষণ এবং এই অঞ্চলে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের অবরুদ্ধ করা চারিত্রিকভাবে গণহত্যা।
হলোকস্টের পর প্রতিষ্ঠিত ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল দ্ব্যর্থহীনভাবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েল তাদের আন্তর্জাতিক সুনাম রক্ষায় হেগভিত্তিক আদালতে নজিরবিহীনভাবে যুক্ত হওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ১২ জানুয়ারি সাংবাদিকদের বলেন, গণহত্যা যে হয়েছে সেটা প্রতিষ্ঠার যে মানদ- রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা হয়তো সেটা পূরণ করেনি। দক্ষিণ আফ্রিকার দাবির পক্ষে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস রায় দিলে কানাডা কী করবে সে ব্যাপারে ট্রুডো কিংবা জোলি কেউই সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
অন্টারিওর গুয়েল্ফে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রুডো বলেন, কানাডা আইসিজেতে পাঁচটি মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে। কারণ, কানাডা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর গুরুত্বে বিশ্বাস করে। তাই বলে আইসিজে ও এর কার্যক্রমের প্রতি আমাদের সর্বাত্মক সমর্থনের অর্থ এই নয় যে, দক্ষিণ আফ্রিকার আনা মামলার ভিত্তিকে আমরা সমর্থন করব।
ট্রুডোর এই মন্তব্যের পর জোলি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেশনে গণহত্যার সংজ্ঞায় বলা আছে, এটা এমন অপরাধ যা একটি গোষ্ঠীকে তাদের জাতীয়তা, বর্ণ ও ধর্মের কারণে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে নির্মূল করার ইচ্ছা। এটা প্রমাণ করার জন্য খুবই বিশ^াসযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন। মামলাটি হেইট-ক্রাইম উস্কে দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

