
গত ৭ জানুয়ারি টরন্টোর দ্য রয়েল কানাডিয়ান লিজিয়ন হলে ১ম বার্ষিক শীতকালীন পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে জামালপুর সমিতি কানাডা। বর্তমান সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ফারুক নুরুর রশিদ শুভ উদ্বোধন ঘোষণার মধ্য দিয়ে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান ডলি বেগম এমপিপিকে এবং ফুল দিয়ে মঞ্চে বরণ করে নেন। ডলি বেগম বক্তব্য শেষে জামালপুর সমিত কানাডা’কে প্রাদেশিক সরকারের সম্মাননাপত্র প্রদান করেন। সেই সাথে সমিতির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের সাথে একাত্ম থাকার ঘোষণা দেন। ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হাফিজুর রহমান লিটন ও লিজা রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে পরিচালনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সদস্য সাজ্জাদ হোসেন জামালপুর সমিতি কানাডার বিভিন্ন কর্মকান্ড ও অঙ্গীকার সংক্ষিপ্ত ও সুন্দরভাবে তুলে ধরেন। সহ-সভাপতি আব্দুল বারী তার বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে জামালপুর জেলার সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট বিবরণ তুলে ধরেন। উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব আজাদ অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে আয়োজন করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আরেক সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান তার বক্তব্যে জামালপুরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানান। সমিতির সহ-সম্পাদক খালেদ শামীম তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সদস্য সাবিনা বারি তার বক্তব্যে জামালপুরের ঐতিহ্য তুলে ধরেন। পিঠা উৎসবের আহবায়ক নাসিহা রহমান অনুষ্ঠানটি আয়োজক কমিটির সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছিল অনুষ্ঠানের আকর্ষণীয় দিক। শুরুতেই ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল আলম ও তার সহধর্মিনী সরোয়ার হাবীব নীনার সুরের মূর্ছনা সবাইকে আকৃষ্ট করে। আব্দুল বারী ও তার সহধর্মিনী শেলিকা বারী এবং তাদের পুত্র বাপ্পি সুরের ঝংকার তুলেন। কবিতায় ছিলেন শামীম। ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান লিটন ও তানজিমা রহমান তিনা মনোজ্ঞ সুরের আওয়াজ তোলেন। অনুষ্ঠানে বিশেস আকর্ষণ ছিলেন বিশিষ্ট অতিথি শিল্পী হাদিউল ইসলাম হিরো। প্রতিটি গানের সাথে ব্যাকগ্রাউন্ডে ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা হয়। সরোয়ার হাবীব নীনার গানের তালে বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী অরুনা হায়দার ও সুলতানা হায়দার নৃত্যের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
জামালপুর জেলার পিঠা, সুস্বাদু খাবার, মিরলি ভাত এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এই পিঠা উৎসব সফলভাবে শেষ হয়। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জেলা জামালপুরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে প্রবাসে বসবাসরত সকল প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া জেলার সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক দিকসমূহ প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। এই পিঠা উৎসব পালনের পালনের মধ্য দিয়ে মাল্টি কালচারালদেশ কানাডার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গিকারও প্রকাশ করা হয়।
সবশেষে ইঞ্জিনিয়ার ফারুক নুরুর রশিদ সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

