
স্বল্পমেয়াদে কানাডার কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা এখন নাগালের বাইরে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, গত বছর গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এবং ফেডারেল সরকারের সাম্প্রতিক নীতি অগ্রযাত্রার রাশ টেনে ধরছে। কানাডার শীর্ষস্থানীয় জলবায়ু নীতি গবেষণা সংস্থা তাদের নতুন এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে।
দি কানাডিয়ান ক্লাইমেট ইনস্টিটিউট ২০২৪ সালের জাতীয় কার্বন নিঃসরণ সংক্রান্ত প্রারম্ভিক প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, গত এক বছরে কানাডা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করেেেছ সাকল্যে ৬৯ কোটি ৪০ লাখ টন, যা গ্যাসচালিত ১৪ কোটি ৬০ লাখ ব্যক্তিগত গাড়ির এক বছরে নিঃসরণ করা কার্বনের সমপরিমাণ।
সরকারের সর্বশেষ উপাত্ত বলছে, কানাডার গ্রিনহাইস গ্যাস নিঃসরণ ২০২৩ সালে একই পর্যায়ে ছিল। ইনস্টিটিউট বলছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ভারী শিল্প থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ যে পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে তেল ও গ্যাস থেকে নিঃসরণ তাকে ছাপিয়ে গেছে।
২০৩গ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ২০০৫ সালের তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ হ্রাসের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কানাডা। বর্তমানে কানাডার গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ২০০৫ সালের তুলনায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কম আছে। লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে হলে প্রতি বছর কানাডাকে ৪ কোটি টন নিঃসরণ কমাতে হবে, যা অসম্ভব বলে মনে করছে ক্লাইমেট ইনস্টিটিউট।
২০৩০ সাল নাগাদ কানাডা কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার খবর অবাক করার মতো কিছু নয়। কারণ, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের ক্ষেত্রে জি৭ভুক্ত দেশগুলোর অগ্রগতি সবচেয়ে কম কানাডার।
এনভায়রনমেন্ট কমিশনার জেরি ডিমার্কো এক বছর আগেই সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, কানাডা কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হতে যাচ্ছে। তবে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর জন্য কানাডার তহাতে এখনো ২০ থেকে ৩০ বছর সময় আছে।
ক্লাইমেট ইনস্টিটিউটের গবেষকরা বলছেন, কানাডা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ২০০৫ সালের তুলনায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হ্রাসের পথে রয়েছে।
ইনস্টিটিউট তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে কানাডার যে অগ্রগতি তা টেকসই নয়।

