
কানাডার তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব সংকট যেমনটা দেখা যাচ্ছে তার চেয়েও খারাপ এবং এর সবচেয়ে বড় শিকার কিশোররা।ডোজারডিন্সের নতুন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবদেনে বলা হয়েছে এটা এমন পর্যায়ে রয়েছে, যা সাধারণত মন্দার সময়ে দেখা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের পর কানাডার তরুণ বেকারত্ব সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। ২০২২ সালে সার্বিক তরুণ বেকারত্বের হার ১০ শতাংশ থাকলেও ২০২৫ সালে তা ১৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। প্রতি পাঁচজন কিশোরের মধ্যে প্রায় একজন কাজ করতে চায়। কিন্তু চাকরি খুঁজে পায় না। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যেও তিন বছরে বেকারত্বের হার সামান্য বেড়েছে। অর্থাৎ, ৯ থেকে ১১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
ডেজারডিননসের অর্থনীতিবিদ কারি নরম্যান এবং ব্যান্ডাল বার্টলেটের প্রতিবেদন বলছে, কানাডায় তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কানাডার সবচেয়ে তরুণ কর্মীদের মধ্যে।
ঐতিহ্যগতভাবেই তরুণদের মধ্যে ২৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সীদের চেয়ে বেকারত্বের হার বেশি থাকে। কিন্তু সম্প্রতি এই ব্যবধান বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপেক্ষাকৃত বেশি বয়সীদের তুলনায় তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বাড়ছে এবং এটা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেটা সাধারণত মন্দার সময় দেখা যায়।
তরুণদের মধ্যে দ্রুত বেড়ে যাওয়া বেকারত্ব সাধারণত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্ধ শতকের দিকে তাকালে আমরা দেখি যে, কানাডায় যতবারই তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়েছে তা ছিল মন্দার সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু বর্তমানে যে হার বৃদ্ধি তা অস্বাভাবিক। কারণ, কানাডা মন্দার মধ্যে নেই।
পরপর দুই প্রান্তিক কোনো দেশের মোট দেশজ উৎপাদন সংকুচিত হলে দেশটি মন্দার মধ্যে পড়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। মহামারির পর থেকে কানাডায় তরুণ জনগোষ্ঠী ও অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ব্যাপক বেড়ে যাওয়া তরুণদের কাজ খুঁজে না পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি ভূমিকা রেখেছে। তবে আরও কিছু বিষয়ও এখানে ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে গিগ ইকোনমি বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে কানাডায় বিনিয়োগে ধীর গতি।

