
এলিজাবেথ মের জায়গায় আবারও আরেকজনকে খুঁজতে হচ্ছে গ্রিন পার্টি অব কানাডাকে। কারণ, দলের দীর্ঘদের এই নেতা মঙ্গলবার বলেছেন, পরবর্তী নির্বাচনে তিনি গিনদের নেতৃত্ব দেবেন না। সদস্যদের কাছে পাঠানো এক ইমেইলে মে বলেন, নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এমপি ও দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যেতে চান।
ইমেইলে মে বলেন, ২০২৫ সালে সংসদের ফল সেশনে আমাদের বড় ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। হাউস অব কমন্সে গ্রিন পার্টির একমাত্র এমপি হিসেবে আমার কণ্ঠ ততটাই শক্তিশালী যতটা শক্তিশালী দলীয় নেতা হিসেবে।
মে বলেন, সরে দাঁড়ানোর আগে তিনি দলের সংসদীয় ককাস বাড়াতে চান। একই সঙ্গে জলবায়ু সংকট, ক্রয়ক্ষমতা সংঘাতপূর্ণ এলাকায় শান্তির দিকেও নজর দিতে চান। নেতা হিসেবে তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে তহবিল সংগ্রহ। সেই চ্যালেঞ্জ পূরণের পরিকল্পনা করছেন তিনি।
মে বলেন, নেতৃত্ব পুনর্মূল্যায়নের ব্যাপারে শিগগিরই বিস্তারিত জানতে পারবেন দলীয় সদস্যরা। এ ছাড়া কীভাবে ভোটে অংম নিতে হয় সে ব্যাপারেও জানতে পারবেন। নতুন নেতা অথবা সহ-নেতা নির্বাচিত হলেই পদত্যাগের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
মে হচ্ছেন হাউস অব কমন্সে গ্রিন পার্টির একমাত্র এমপি। সর্বমেষ ফেডারেল নির্বাচনে একটিমাত্র আসনেই জয় পায় তারা। মে গ্রিন পার্টির নেতা নির্বাচিত হন ২০০৬ সালে। এরপর ২০১৯ সালে তিনি পদত্যাগ করেন এবং দলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন অনামী পাল। কিন্তু মে সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে থেকে যান। কারণ, হাউস অব কমন্সে অনামীর কোনো আসন ছিল না। ২০২১ সালের নির্বাচনের পর অনামী পদত্যাগ করেন। ওই নির্বাচনে তার টরন্টো রাইডিংয়ে চতুর্থ হন তিনি।
এরপর ২০২২ সালে জোনাথন পেডনলের সঙ্গে যৌথ নেতা নির্বাচিত হন মে। ফেডারেল নির্বাচনে দলের হতাশাজনক ফলাফলের কথা স্বীকার করে নিয়ে গত এপ্রিলে পেডনল পদত্যাগ করলে একমাত্র নেতা হন মে।
এপ্রিলের নির্বাচনে জাতীয়ভাবে মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ সমর্থন পান। এবং গ্রিন পার্টির একমাত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন মে। ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ৭ শতাংশ পেয়েছিল দলটি। সেই নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন গ্রিন পার্টির তিনজন প্রার্থী।
এপ্রিলের নির্বাচনে দলটি মনোনয়ন দিয়েছিল ৩৪২ জনকে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে টিকে ছিলেন ২৪০ জন গ্রিন প্রার্থী।
দলটি বলেছে, সব মনোনয়ন নিশ্চিত করতে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। শর্তের কারণেই এই সমস্যা হয়। শর্ত অনুযায়ী, চূড়ান্ত মনোনয়ন পেতে একজন প্রার্থীকে তার রাইডিংয়ের অন্তত ১০০ জনের স্বাক্ষর দেখাতে হয়।

