
এই গ্রীষ্মে শিকাগো ও নিউ ইয়র্কের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মহানগরীগুলোর ঝাপসা বাতাস স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে তাদের উত্তরের প্রতিবেশীদের সঙ্গে তারা কতখানি সংযুক্ত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে এই সম্পর্ক কতটা খারাপ হয়েছে সেটা এখানে বিবেচ্য নয়।
কানাডিয়ান প্রদেশগুলো শহরগুলো খালি করে ফেলেছে এবং ৩০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে আগুনের কারণে সৃষ্ট ধোঁয়া সীমান্তের ওপারে পৌঁছে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নগরীর বাসিন্দাদের অস্বাস্থ্যকর বাতাস সহ্য করতে হচ্ছে।
শুক্রবার পর্যন্ত কানাডাজুড়ে সক্রিয় আগুন চিল ৭১৮টি। এর মধ্যে প্রায় ৫০০টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কানাডার প্রেইরি অঞ্চলের প্রদেশগুলোতে দাবানলের সূত্রপাত হয় গত মে মাসে। পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়া এবং আলবার্টাতেও বড় আকারের আগুনের ঘটনা ঘটে। অয়েল স্যান্ডস রিজিয়নের একটি আগুন দৈনিক প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এরপর থেকে দেশব্যাপী আগুন ছড়িয়ে পড়ে। নিউফাউন্ডল্যান্ডের পূর্ব সীমা পর্যন্ত তা বিস্তৃত হয়।
২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ধোঁয়ার বড় উৎস ছিল কুইবেকের আগুন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্টে ধোঁয়ার বড় উৎস কানাডিয়ান প্রেইরি অঞ্চলের আগুন।
শুক্রবার পর্যন্ত দাবানলে কানাডার মোট ৭২ লাখ হেক্টর জমি পুড়েছে। কানাডিয়ান ইন্টারএজেন্সি ফরেস্ট ফায়ার সেন্টার এবং ন্যাচারাল রিসোর্সেস কানাডার উপাত্ত অনুযায়ী, ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম এত কম সময়ে এ এত বিপুল পরিমাণ জমি দাবানলের কারণে ভস্মিভুত হলো। ২০২৩ সালে দাবানলে পুড়েছিল এক কোটি ৪৬ লাখ হেক্টর ভূমি।

