
ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে ১০ মে জাতিসংঘের আরও একটি ভোটাভুটি থেকে বিরত থাকে কানাডা। চলমান সংঘাতের অবসানের আগে স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থনের দরজা উন্মুক্ত রেখেছে তারা।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ওয়েস্ট কেলোনায় সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পথ বন্ধ করতে ইসরায়েলি সরকারকে থামাতে কানাডার যে উদ্যোগ এটা তার অংশ। আমাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, দুই রাষ্ট্র সমাধানের যে প্রক্রিয়ার ফলাফল হিসেবেই কেবল আপনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে পারেন। দুই রাষ্ট্র সমাধানে গতি আনার উপায় হিসেবে আমরা এখন এই স্বীকৃতি দিচ্ছি যে, প্রক্রিয়াটি শেষ হওয়ার আগেই এটি ঘটবে।
জাতিসংঘের ফোরামগুলোতে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধির আরও অধিকার দেওয়ার পক্ষে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভোট হয়। সেই সঙ্গে ফিলিস্তিনের পূর্ণাঙ্গ সদস্য হওয়ার পথে যে প্রতিবন্ধকতা তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায় নিরাপত্তা পরিষদ।
কানাডাসহ মোট ২৫টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। ট্রুডো বলেন, ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে আনা অধিকাংশ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোটদানের ব্যাপারে কানাডার যে অবস্থানে এটা সেই অবস্থানের ইচ্ছাকৃত পরিবতন। অটোয়া আগে এটাকে শান্তি আলোচনায় বিঘœ সৃষ্টিকারী একতরফা প্রস্তাব বলে মনে করত।
নিজের যুক্তি ব্যাখ্যা করে ট্রুডো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর অধীনে ইসরায়েলি সরকার দুই রাষ্ট্র সমাধানের পথে সব দরজা বন্ধ অগ্রহণযোগ্যভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এর সঙ্গে মৌলিকভাবে আমাদের দ্বিমত আছে।
সংঘাতের ব্যাপারে মাসব্যাপী কানাডা যে অবস্থান নিয়েছে তা পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রুডো। কানাডার এই অবস্থানের মধ্যে রয়েছে হামাসকে অপহৃতদের ছেড়ে দিতে হবে। সেই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। আর ইসরায়েলকে মানবিক সহায়তা সীমিতকরণ বন্ধ করতে হবে। কারণ, এর ফলে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রাণহাণী ঘটছে।
গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা এক বিবৃতিতে লিখেছে, স্থায়ী শান্তির সহায়ক সবচেয়ে ভালো পরিবেশ যখন সৃষ্টি হবে তখন কানাডা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেবে। ইসরায়েলের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির পরই এটা হতে হবে তেমনটা নয়। এবং এই শান্তি আলোচনা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে বিলম্বিত করতে পারে না।
অটোয়ায় ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছেন, এই পরিবর্তন কটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতির মাধ্যমে এই অঞ্চলে কানাডার শান্তি প্রতিষ্ঠার যে আকাক্সক্ষা তা আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত হতো। অটোয়ায় নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত তার যুক্তিতে বলেছেন, ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ দিলে তা হবে হামাসের জন্য পুরস্কার।

