সোমবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৪
16.3 C
Toronto

Latest Posts

অন্টারিও বাঙ্গালী কারচারাল সোসাইটি’র ‍উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন

- Advertisement -

অন্টারিও বাঙ্গালী কারচারাল সোসাইটি’র ‍উদ্যোগে গত রোববার টরন্টো পাবলিক লাইব্রেরীর সিডারব্রে শাখার মিলনায়তনে (৫৪৫ মার্কহাম রোড, স্কারবরো) অনুষ্ঠিত হলো আন্তর্জাতিক নারী দিবস। অনুষ্ঠানে বক্তাগণ নারী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সোসাইটির সভাপতি জসিম উদ্দিন।

- Advertisement -

বিশ্ব নারী দিবস পালনের এই অনুষ্ঠানে শুরুতে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন ওমর ফারুখ, আজিজা ফারুখ, গোলাম মহিউদ্দিন, ইয়াসমিন খায়ের, মোনা দেওয়ান, লাভলী রহমান রোখসানা শানু, রোখসানা ঝিনুক ও শামীম ইকবাল। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরো যারা গান পরিবেশন করেন তারা হলেন, ফারহানা শান্তা, সুমি বর্মণ, কাশফিয়া চৌধুরী, বিপ্লব কর্মকার, রুখসানা শানু ও ব্যরিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। কবিতা পাঠ করেন কামরান করিম ও জ্যাকুলিন রোজারিও।
উল্লেখ্য যে, নারী-পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করা এবং নারীর প্রতি সহিংসতা রোধের আহ্বান জানিয়ে প্রতি বছর ৮ মার্চ এই দিবসটি পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘Invest in women: Accelerate progress.’

বিগত কয়েক বছর ধরে দিসবটি পালন করে আসছে অন্টারিও বাঙ্গালী কারচারাল সোসাইটিও। দিবসটি পালন উপলক্ষে সোসাইটির পক্ষ থেকে প্রতিবছরই নিজ ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে একজন নারীকে ‘ওম্যান অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ বছর যিনি সম্মাননা পেলেন তিনি হলেন, টরন্টোর বাংলাদেশী কমিউনিটির বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নৃত্য শিল্পী অরুণা হায়দার।

অরুণা হায়দার প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও জনপ্রিয় নৃত্য শিল্পী এবং সমাজ কর্মী।

অরুণা হায়দারের উপর আরো যারা বক্তব্য রাখেন তারা হলেন গোলাম মহিউদ্দিন, আখতার হোসেন, মেরী রাশেদীন, সীমা বড়ুয়া ও সালমা বাণী। বক্তারা সকলেই অরুণা হায়দারের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিতে তুলে ধরেন। তার আগে অরুণা হায়দারকে দেয়া সম্মাননা পাঠ করেন ইশরাত জাহান।

সবার শেষে বক্তব্য রাখেন অরুণা হায়দার। ‘ওম্যান অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা প্রদানের জন্য তিনি অন্টারিও বাঙ্গালী কারচারাল সোসাইটিকে ধন্যবাদ জানান। বক্তব্য রাখার সময় তিনিও আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন এবং নিজের জীবনে মা সুলতানা হায়দারের অবদানের কথা বলতে গিয়ে অশ্রুসজল হয়ে পড়েন। এই সময় তার মা মঞ্চেই উপস্থিত ছিলেন ।
সম্মাননা প্রদানের পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি দেলোয়ার এলাহী।

‘ওম্যান অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা প্রদান ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় কমিউনিটির সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সম্প্রতি প্রয়াত মুন্নী সুবাহানীকে। মুন্নী সুবাহানী ছিলেন জনপ্রিয় কণ্ঠ শিল্পী এবং একই সাথে একজন নৃত্য শিল্পী। ছিলেন একজন উদ্যোক্তাও। ১৯৭৪ সালে মুন্নী সোবাহানী ও তাঁর স্বামী আফজাল সোবাহানী মিলে কানাডায় গড়ে তুলেছিলেন লামিস স্কুল অব মিউজিক এ্যান্ড ড্যান্স। সুদীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত ঐ স্কুল থেকে নাচে প্রশিক্ষণ নেয় বিপুল সংখ্যক শিশু-কিশোর। মুন্নী সোবাহানী অন্টারিও বাঙ্গালী কারচারাল সোসাইটি’র সঙ্গেও জড়িত ছিলেন ওতপ্রোতভাবে। অনুষ্ঠানে প্রবাসের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মুন্নী সোবাহানীর অবদানের কথা স্মরণ করে বক্তব্য রাখেন লেখক ও বিটিভি’র সাবেক সংবাদ পাঠক আলী হায়দার। তার আগে তিনি সুরা পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে মুন্নী সোবহানীকে নিয়ে আরো যারা স্মৃতিচারণ করেন তারা হলেন মোহাম্মদ সালাম ও নাসরিন খান।

স্মৃতিচারণের এই পর্বটি পরিচালনা করেন ফারহানা পল্লব।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত মুন্নী সোবাহানীর স্বামী আফজাল সোবাহানীও।
প্রয়াত মুন্নি সুবহানীর পছন্দের গান নিয়ে সাজানো হয়েছিল একটি পর্ব। এই পর্বে তার পছন্দের গানগুলো পরিবেশন করা হয়। গান পরিবেশন করেন অন্টারিও বাঙ্গালী কারচারাল সোসাইটি’র নিজস্ব শিল্পীবৃন্দ। গানগুলো ছিল ‘হারানো হিয়া- গেয়েছেন গোলাম মহিউদ্দিন, ‘কথা ছিল দেখা হবে’- গেয়েছেন ইয়াসমিন খায়ের, ‘কে প্রথম কাছে এসেছি’- গেয়েছেন ওমর ফারুখ ও আজিজা ফারিখ, ‘তোমায় কেন লাগছে এত চেনা’- গেয়েছেন ফারহানা পল্লব, ‘একটা গান লিখ আমার জন্য’- গেয়েছেন রুখসানা ঝিনুক, ‘একবার যেতে দে না আমার’ – গেয়েছেন মোনা দেওয়ান। এরপর দলীয়ভাবে পরিবেশন করা হয় ‘তুমি যে আমার ওগো তুমি যে আমার’ গানটি।
হল ভরা দর্শক সন্ধ্যা ৬টায় শুরু করে বিশ্ব নারী দিবসের এই অনুষ্ঠানটি রাত ১০ পর্যন্ত উপভোগ করেন। সুন্দর এবং গুছালো এই অনুষ্ঠানটি অন্টারিও বাঙালী কালচারাল সোসাইটির বিগত ২১ বছরের প্রবাসে বাঙলা শিল্প সংষ্কৃতি চর্চার যে মান ধারন ও বহন করে চলেছে সেই ধারাবাহিকতায় আরেকটি মাইলফলক যোগ করে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.