
বঙ্গবন্ধু গবেষক হিসেবে এবার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অর্জনের জন্য কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালকে গত
২৫ ফেব্রুয়ারি টরন্টোস্থ বাংলাদেশি সাংবাদিকেরা এক আনন্দঘন সংবর্ধনা দেন। বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা ডেনফোর্থস্থ লবঙ্গ রেষ্টুরেন্টে দুপুরে এই সংবর্ধনা আয়োজন করা হয়। আয়োজক ছিলেন বিশিষ্ট রিয়েলটর, সাংবাদিক মাহবুব ওসমানী।
এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কন্ঠের সম্পাদক খুরশিদ আলম, বিডি নিউজ ২৪-এর আসাদুজ্জামান, সাপ্তাহিক বাংলা মেইলের সম্পাদক ও এনআরবি টিভির সিইও শহিদুল ইসুলাম মিন্টু, সিবিএন’এর সম্পাদক মাহবুব ওসমানী, নতুন দেশের সম্পাদক
শওগাত আলী সাগর, ক্লাইমেট চ্যানেলের সঞ্জয় চাকী, সাপ্তাহিক ভোরের আলোর বার্তা সম্পাদক দীন ইসলাম, সাংবাদিক সুব্রত নন্দী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক সুমন রহমান উপস্থিত না থেকেও এক বার্তায় বলেন, ‘কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই।’… সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল বাংলা একাডেমী পুরস্কার পেয়ে আমাদের স্মরণ করিয়ে দিলেন এতদিন তিনি এই পুরস্কার পাননি। বিস্মিত অনেকেই স্বগতোক্তি করবেন, ‘তাই তো!’
দুলাল পুরস্কৃত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কাজের জন্য। তবে, তাঁর কাজের মূল জমিন কবিতা। তাঁর পরিচিতি ও খ্যাতিও কবি হিসেবেই।
শহিদুল ইসুলাম মিন্টু বলেন, প্রিয় অগ্রজ সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের পরিচয় একাধিক। একাধারে তিনি সাংবাদিক, কবি, লেখক ও গবেষক। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ তার পছন্দের বিষয়। দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন এসব নিয়েই। কবি হিসেবে তার অবস্থান অনেক শক্তিশালী।
বাংলা একাডেমিসহ অসংখ্য পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা তিনি অর্জন করেছেন আরো অনেক আগেই। সবে পেলেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। তার এই অর্জনে আমরা অভিবাসীরা আনন্দিত এবং গর্বিত।
খুরশিদ আলম বলেন, কানাডা অভিবাসী কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল বঙ্গবন্ধু বিষয়ক গবেষণা কর্মের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরষ্কার অর্জনে, আমরা যারা প্রবাসে আছি তাদের জন্যও গর্বের।
দুলালকে খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে আমার। শুধু লেখক বা সাংবাদিক হিসেবেই নন। মানুষ হিসেবেই তিনি একজন ভালো মানুষ। দুলাল একজন ব্যতিক্রমধর্মী ব্যক্তিত্ব তাতে সন্দেহ নেই।
সুদূর এই প্রবাসে বসে প্রচন্ড ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও উনি বঙ্গবন্ধুর উপর কুড়িটি গবেষণাধর্মী বই লিখেছেন, সেটি তার অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও মেধারই পরিচয় বহন করে।
সুব্রত নন্দী বলেন, এই পুরস্কার সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের প্রাপ্য ছিল অনেক আগেই। দেরিতে হলেও বাংলা একাডেমি তাঁকে সম্মানিত করেছে এতে আমি আনন্দিত হয়েছে। তাঁকে আমার অভিনন্দন, আলিঙ্গন।
শওগাত আলী সাগর বলেন, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল একজন সাহসী লেখক এবং সাংবাদিক। খুনি নূর চৌধুরীর বাসায় জুতা ঝুলিয়ে দেয়া এবং সেখান থেকে ফেইসবুকে শুধু লাইভ করাই নয়; কানাডা হাই কমিশনারদের অপকর্মের প্রতিবাদ তিনি সব সময় করেন এবং তার প্রতিবাদ কার্যকরী হয়।
মাহবুব ওসমানী বলেন, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল সব্যসাচী মানুষ। লেখালেখি পাশাপাশি তিনি আমাদের অগ্রজ সাংবাদিক। ইত্তেফাকের সাথে যুক্ত। তার কাছে অনেক কিছু শেখার আছে। তাই আজ আমরা সাংবাদিকরা তাঁকে নিয়ে এই আয়োজন করছি।
সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের স্ত্রী অপি মাহমুদ বলেন, তিনি জাতীয় পর্যায়ের সন্মান বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ছাড়াও এবার গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু স্মৃতি পুরস্কার, সোনার বাংলা সাহিত্য পুরস্কার এবং চন্দ্রাবতী সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। আমি তাঁর এই জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কারে আমি গর্বিত এবং আনন্দিত।
সংবর্ধিত কবি ও গবেষক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল বলেন, জামালপুরে শিল্পকলায়, মাদারগঞ্জে মীর্জা আজম সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে, ইত্তেফাক অনলাইনের সহকর্মীদের এবং শেরপুর প্রেসক্লাবে সংবর্ধনা ও আড্ডার পাশাপাশি আজকের আয়োজনের অন্য রকম আমেজ আর আনন্দ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, পুরস্কার পাবার পর আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য বেড়ে গেছে।
সাপ্তাহিক বাংলামেইলের পক্ষ থেকে সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের হাতে একটি সম্মাননা প্লাক তুলে দেন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টু।

