
কল্পনা করুন ভেঙে যাওয়া একটি গাড়ি রাস্তার পাশে পড়ে আছে। হতাশ চালক হুডের নিচ দিয়ে তাকাচ্ছেন অথবা সাহায্য চেয়ে ফোন করছেন। পরের ছবিটা এরকমই।
কিন্তু এতে হয়তো পরিবর্তন আসছে। সংযুক্ত গাড়ির অগ্রসর সফটওয়্যার দ্রুত গতিতে উন্নত হচ্ছে, যা গ্যারেজ বা ডিলারশীপের কাছে যাওয়া ছাড়াই কিছু সমস্যার হয়তো সমাধান দেবে। তথাকথিত এই ওভার-দ্য-এয়ার সমাধান দূর থেকেই এন্টারটেইনমেন্ট ও নেভিগেশন সিস্টেম হালনাগাদ করতে সক্ষম। কিছু ক্ষেত্রে জরুরি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যগুলোও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অটোমোটিভ র্শিপ এদিকেই এগোচ্ছে।
সেল্ফ-ড্রাইভিং ফিচারের কারণে গত ডিসেম্বরে টেসলা ২০ লাখের বেশি গাড়ি প্রত্যাহার করেছে। এই ত্রুটি ভয়াবহ সংঘর্ষের কারণ বলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন সংস্থা জানিয়েছে। সমস্যাটি সমাধানে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি ওভার-দ্য-এয়ার সফটওয়্যার হালনাগাদে সক্ষম হয়।
যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক এবিআই রিসার্চের অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি বিশ্লেষক ডিলান খু বলেন, সফটওয়্যার এখন আর গাড়ি নির্মাতাদের কাছে ঐচ্ছিক কোনো বিষয় নয়। এটা বাধ্যতামূলক। গাড়িতে আপনার সফটওয়্যার থাকতেই হবে এবং অন্তর্নিহিতভাবেই সফটওয়্যার বাগ থাকে। এই সফটওয়্যারের হালনাগাদ প্রয়োজন হয়। আপনি যদি দূর থেকে সেটা করতে না পারেন তাহলে এর কার্যকারিতা হয় সীমিত।
মোবাইল ফোন অথবা ল্যাপটপের মতো কানেক্টেড ডিভাইসের মতোই কাজ করে রিমোট আপগ্রেড। প্রথম অটোমেকার হিসেবে টেসলা এক দশকেরও বেশি সময় আগে ওভার-দ্য-এয়ার হালনাগাদ চালু করে। এ ধরনের হালনাগাদ ভোক্তার ব্যবহার অভিজ্ঞতায় লক্ষণীয় উন্নতি এনেছে বলে জানান সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান চেক পয়েন্ট সফটওয়্যার টেকনোলজিস লিমিটেডের প্রকৌশল শাখার প্রধান রবার্ট ফ্যালজন।
কিছু গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কিছু মাত্রায় রিমোট আপডেট দিলেও তা টেসলার ক্রিটিক্যাল সেফটি রিমোট ফিক্সের ধারেকাছেও নেই। জরুরি ফিচারগুলো সমাধানের হালনাগাদ অতোটা চালু নয়। বিড়ম্বনা দেখা দিলে নির্দিষ্ট ধরনের ওভার-দ্য-এয়ার আপডেটে পুরোপুরি সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও দ্বিধা কাজ করে তাদের মধ্যে।

