
চীনে নিযুক্ত গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার একজন সমকামী কর্মী সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের খরচ পাচ্ছেন। ট্রাইব্যুনালের এক রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই খরচ পাচ্ছেন তিনি।
পাবলিক সার্ভিস লেবার বোর্ড গত আগস্ট মাসে দেওয়া এক রুলিংয়ে জানায়, সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান জন্মদানে যে খরচ কোনো সমলিঙ্গের দম্পতিকে যদি অটোয়া না দেয় তা হবে বৈষম্যমূলক।
হুগোস আলেক্সান্ডার মনিজ বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে সব ধরনের মানুষকে আমরা আকৃষ্ট করছি এবং যাদের বিভিন্ন ধরনের পারিবারিক চিত্র আছে তাদেরকে সহায়তার ব্যাপারে আমাদের আরও তৎপর হতে হবে।
কয়েক বছর ধরে চলা মামলায় ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে উভয় পক্ষই এখন দর-কষাকষি করছে। হুগোস আলেক্সান্ডারের ছেলে অস্কারের বয়স এখন আট বছর। তার একটি বোনও আছে। ইভলিনের জন্মও সারোগেসির মাধ্যমে। দুজনই বাবার সঙ্গে হংকংয়ে থাকে।
মনিজ বলেন, এই পর্যায়ে আসতে অনেক সময় লেগেছে। অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি আশাবাদী যে, এটা আমাদেরকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দেবে। আশা করি কিছুটা হলেও আমরা কর্পোরেট ইতিহাস তৈরি করতে পারব। সেই সঙ্গে আমাদের মতো অন্যদের যাতে এ ধরনের দেওয়ালের সামনে না পড়তে হয় সেটা নিশ্চিত করতে পারব।
এমন এক সময় এই সিদ্ধান্ত এল যখন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা মেধাবীদের ধরে রাখতে নিয়োগবিধিতে ব্যাপক সংস্কার আনার চেষ্টা করছে।
মনিজের ইউনিয়ন বলেছে, ফরেন সার্ভিস আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে অটোয়া দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্যা মোকাবিলা করছে এই মামলার মধ্য দিয়ে সেটাই সামনে এসেছে।
মনিজ তার ঊর্ধ্বতনকে সারোগেসি সন্তান জন্মদানের জন্য যখন যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের কথা জানান সে সময় তিনি চীনের গুয়াংজুতে কানাডার কন্স্যুলেটে প্রশাসনিক পদে নিযুক্ত ছিলেন। এই খবর শুনে তার সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতনদের মধ্যে এক ধরনের শিহরণ তৈরি হয় এবং মনিজের ছুটির প্রাথমিক ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি ভ্রমণ ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য অগ্রিম নগদ কিছু অর্থেরও ব্যবস্থা করে দেন।
মনিজ বলেন, কবে নাগাদ আমাদের সন্তানদের নিয়ে আমরা ফিরি এবং তাদের লিঙ্গ কী তা জানার জন্য তারা সবাই উদগ্রিব হয়ে ছিলেন।

