
বেশ কয়েকবার লিস্টিংয়ের পর ৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার লোকসানে বিক্রি হলো ব্র্যাম্পটনের একটি বাড়ি। টরন্টোর বাইরে আবাসন বাজারের অবস্থা বোঝার জন্য এটাই যথেষ্ট বলে মনে করছেন আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা।
দুই তলাবিশিষ্ট ডিটাচড বাড়িটির অবস্থান ২৭ জ্যাকসনভিল ড্রাইভে। গত ৫ জানুয়ারি ১৭ লাখ ডলারে বাড়িটি বিক্রির প্রস্তাব করা হয়। দুই বছর আগে ২০২২ সালে বাড়িটি বিক্রি হয়েছিল ২৩ লাখ ডলারে।
টরন্টো রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ডেসমন্ড ব্রাউন বলেন, একটা সময় দাম একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। অনেক ক্ষেত্রে তা ছিল কৃত্রিমভাবে তৈরি। মহামারির প্রথম কয়েক বছরে বাড়ির অস্বাভাবিক কম দামের কথা উল্লেখ করে এসব কথা বলেন তিনি।
ব্রাউন বলেন, কোভিড এবং কোভিড-পরবর্তীতে বাড়ির দাম যখন টালমাটাল অবস্থা সেই সময় টরন্টোর আশপাশের এলাকা এর ভুক্তভোগী হয় সবচেয়ে বেশি। এমনকি পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং দাম ঘুরে দাঁড়ায় তখনও। জ্যাকসনভিলের বাড়িটি অস্বাভাবিক লোকসানে বিক্রি হলেও সার্বিক মূল্য পতন এতটা তীব্র নয়। ব্র্যাম্পটনে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ডিটাচড বাড়ির দাম কমেছে গড়ে ৩০ শতাংশ। এর বিপরীতে একই সময়ে জ্যাকসনভিলের বাড়ির মূল্য কমেছে ২৫ শতাংশ। জ্যাকসনভিলের বাড়িটি বিপুল লোকসানে বিক্রি হওয়া সত্ত্বেও ব্র্যাম্পটনের আবাসন বাজার প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করেছে।
টরন্টো মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটির আরবনা অ্যানালিটিকস ইনস্টিটিউটের গবেষণা পরিচালক মুর্তজা হায়দার আরেকটি বাড়ির কথা উল্লেখ করেন, যার গল্পটাও একইরকম। মিসিসোগার ১০৯৯ ক্যাল্ডওয়েল অ্যাভিনিউয়ের একটি ডিটাচড বাড়ি গত মাসে ৮ লাখ ডলার লোকসানে বিক্রি হয়েছে। ২০২১ সালের বসন্তে বাড়িটির ২৬ লাখ ডলার দাম চাওয়া হলেও বিক্রি হয় ৪ লাখ ডলারে। এক বছর পর ২০২২ সালের মার্চে ৩৪ ডলার দাম চেয়ে কয়েক দফা বাড়িটি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। কয়েক দফা দাম কমে ডিসেম্বরে এটি ১৮ লাখ ডলারে বিক্রি হয়।
২০২২ সালের মে/জুন সময় থেকে দাম কমার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে হায়দার বলেন, ২০২২ সালের গড় মূল্যের সঙ্গে আমি ২০২৩ সালের গড় মূল্যের তুলনা করে দেখেছি। তাতে ব্র্যাম্পটন এবং মিসিসোগার মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখিনি আমি। আবাসন একটি দীর্ঘ খেলা। সুতরাং, কেউ যদি দুই বছর পর বিক্রি করতে যান তাহলে তিনি বড় অঙ্কের অর্থ খোয়াবেন।

