
গণতন্ত্রপন্থী এক কর্মীকে নাগরিকত্ব দিচ্ছে না কানাডা। রাশিয়্রা সেনাবাহিনী ও মস্কোর ইউক্রেন অভিযানের সমালোচনা করে ব্লগ পোস্টের জেরে রাশিয়ার একটি আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কানাডা।
মারিয়া কার্তাশেভা নামে ওই নারী বলেন, গত জুনে নাগরিকত্ব অনুষ্ঠান থেকে ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা বের করে দেওয়ার পর তাকে রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হতে পারের বলে তিনি ভয় পাচ্ছেন। সেই সঙ্গে ওই সময় তাকে এও জানানো হয় যে, রাশিয়ায় আনা অভিযোগ কানাডাতেও অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কিনা সেটাও তাদেরকে যাচাই করে দেখতে হবে।
এক সাক্ষাৎকারে কার্তাশেভা বলেন, রাশিয়ার বহু লোক আছে যারা এই যুদ্ধের বিরোধী। কিন্তু আমার মতো অবস্থা হতে পারে এই ভয়ে তারা এ নিয়ে কোনো কথা বলে না।
কর্তৃত্ববাদ বেড়ে যাওয়ায় ২০১৯ সালে তিনি রাশিয়া ত্যাগ করেন এবং অটোয়াতে তিনি একজন প্রযুক্তিকর্মী। রাশিয়ায় গণতন্ত্রের দাবিতে তৃণমূল পর্যায়ে একটি গ্রুপও গড়ে তুলেছেন তিনি।
৩০ বছর বয়সী কার্তাশেভা ২০২২ সালের শেষ দিকে তার পরিবারের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, তার বিরুদ্ধে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এনেছে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষগুলো।
অভিযোগগুলো কানাডায় বসবাসের সময় ২০২২ সালের মার্চে তার লেখা দুটি ব্লগ পোস্টকে কেন্দ্র করে আনা হয়েছে। পোস্টে তিনি ইউক্রেনের বুকা শহরে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর হত্যাকা-কে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় ওই হামলাকে অবৈধ হত্যাকা- বলে উল্লেখ করেছে। সেখানে অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়।
কার্তাশেভা অভিযোগের বিষয়টি ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডাকে অবহিত করেন। বিভাগের নথি অনুযায়ী, গত মে মাসে তিনি রাশিয়ার আদালতের নথি অনুবাদ করে আপলোড করেন। এর কয়েকদিন পর বিভাগের পক্ষ থেকে নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়।
২০২৩ সালের ৭ জুন স্বামীকে নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। অনুষ্ঠান কক্ষে যাওয়ার আগে প্রাক-স্বাক্ষাৎকার হয় এবং জিজ্ঞাসা করা হয় যে, কারো বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আছে কিনা। কার্তাশেভা তার বিষয়টি জানানোর পর একজন কর্মকর্তা তাকে আর অনুষ্ঠান রুমে প্রবেশ করতে দেননি।

