শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪
-4.1 C
Toronto

Latest Posts

অন্টারিও বাঙ্গালী কালচারাল সোসাইটির বিজয় দিবস উদযাপন

- Advertisement -

গত ১৬ ডিসেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেল অন্টারিও বাঙ্গালী কালচারাল সোসাইটির বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘বিজয়মেলা’। স্কারবোরোর ৫৩০ মিডল্যান্ড এভিনিউ, হোপ গসপেল চার্চের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। অনুষ্ঠানের হল আর বাংলাদেশের পতাকায় বিরাট সুদৃশ্য মঞ্চ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

- Advertisement -

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন জনপ্রিয় উপস্থাপিকা ও আবৃত্তিশিল্পী ফারহানা আহমাদ। তিনি সকল বীর সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বাংলাদেশের ও ক্যানাডার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করার জন্য ওবিসিএস এর শিল্পীবৃন্দকে মঞ্চে আহ্বান করেন।

ইয়াসমিন খায়েরের নেতৃত্বে সবগুলো দলীয় সঙ্গীতে অংশ নেন- গোলাম মহিউদ্দিন, সাইয়েদা রোখসানা বেগম, ওমর ফারুখ, আজিজা ফারুখ, লুতফর রহমান, লাভলী রহমান, মোনা দেওয়ান, বাহাউদ্দিন রতন ও রিনা বেগম।
কবিতা আবৃত্তি করেন সাবরিনা সাবরিনা, গোলাম মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ সালাম ও এম এ করিম।

ওবিসিএস-এর সাংগঠনিক তৎপরতা ও পরিচিতি উপস্থাপন করেন ড: মোহাম্মদ হোসেন টিপু। তারপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন সভাপতি জসিমউদ্দিন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের উপর আলোকপাত করেন।
স্বাধীনতার গান “এক সাগর রক্তের বিনিময়ে” পরিবেশন করেন সৈয়দা রোখসানা বেগম ও দল।

মুক্তিযোদ্ধার সম্মাননা পর্ব পরিচালনা করেন দেলওয়ার এলাহী। তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও বীর সৈনিকদের গৌরবের কথা তুলে ধরেন। এ বছরে বাঙ্গালী কালচারাল সেসাইটির পক্ষ থেকে সম্মান জ্ঞাপন করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা –
জনাব আলতাফ হোসেনকে। জনাব আলতাফ হোসেন মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ব্যক্তিগত আবেগময় স্মৃতি রোমন্থন করেন। তাঁকে ক্রেস্ট ও ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মান জানানো হয়।

এরপর গান পরিবেশন করেন এ প্রজন্মের শিল্পী কাশফীয়া চৌধুরী। সে প্রবাসে থেকেও তার উত্তরসূরী মিতামহ জহুর আহমেদ চৌধুরীর দেশপ্রেমে কিভাবে উদ্বূদ্ধ হয়েছে তার ভাষায় তা ব্যক্ত করে কাশফিয়া। কাশফিয়ার মা রিনা বেগমকে এ প্রজন্মের সন্তানদের মাঝে বাংলাদেশকে বুঝার ও বাঙালী বলে গর্ব করার যে মানসিকতা ও শিক্ষা দিয়েছেন তার জন্য করতালী দিয়ে তাঁকে অভিভাদন জানানো হয়।

ফারহানা শান্তা তার খালি কন্ঠে ‘সব ক’টা জানালা খুলে দাও না’ গানটি গেয়ে হল ভরা দর্শক কে পিনপতন নিরবতায় নিমজ্জিত করেন।

এর পরবর্তী পর্ব ছিল সদ্য প্রয়াত কবি আসাদ চৌধুরীর স্মরণে সভা। এ পর্বটি শুরু হয় সীমা বড়ুয়ার একটি একক নৃত্য দিয়ে। আসাদ চৌধুরীর স্মরণে আলোচনায় ছিলেন লেখক, নাট্যকার আকতার হোসেন ও লেখক সালমা বাণী। তাঁরা কবি আসাদ চৌধুরী কত বড় মাপের মানুষ ছিলেন এ প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন। কবির পরিবারের পক্ষ থেকে কবি কন্যা নুসরাত জাহান চৌধুরী শাঁওলী ও কবি পুত্র আসিফ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। শাঁওলী স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন আর আসিফ তাঁর বাবার লেখা বারবারা বীডলারকে পাঠ করে দর্শকদের আবেগাপ্লুত করেন।

একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন ওমর ফারুখ। তারপর যুগলসঙ্গীত করেন ওমর ফারুখ ও আজিজা ফারুখ।

সিমা বড়ুয়ার কোরিওগ্রাফীতে গীতাঞ্জলি একাডেমী নৃত্য পরিবেশণ করেন- কারার ঐ লৌহকপাট।

সংগঠনের পরিচালকগণ এক পর্যায়ে মঞ্চে আসেন। নির্বাহী পরিচালক ফারহানা পল্লব সংগঠনের পক্ষ থেকে সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানের প্রাইম স্পন্সর রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ওয়ালিউল হাসানকে সার্টিফিকেট ও ফুলের তোড়া, আর অন্য সকল পৃষ্ঠপোষক যথাক্রমে রিয়ালটর সুরুজ্জামান, রিয়ালটর বিপ্লব কুমার কর্মকার ও রিয়ালটর রিনিঝিনিকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা হয়। এ বছর সংগঠনে বিশেষ ভুমিকা রাখার জন্য পরিচালক সুরাইয়া ইয়াসমিন স্নিগ্ধা, ড: মোহাম্মদ হোসেন টিপু ও মোনা দেওয়ানকে সার্টিফিকেট প্রদানের মাধ্যমে সম্মান দেয়া হয়। এ ছাড়াও পুরো অনুষ্ঠানটি সার্বিক উপস্থাপনার জন্য ফারহানা আহমেদকে, সংগঠনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য ইয়াসমিন খায়ের ও শব্দ নিয়ন্ত্রণে ইমরান রাফীকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা দেয়া হয়।

এর পর দেশের গান একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়ে পরিবেশণ করেন, মোনা দেওয়ান ও ফারহানা পল্লব। স্বদেশ পর্যায়ের রবীন্দ্রসঙ্গীত গ্রামছাড়া ঐ রাঙা মাটির পথ পরিবেশনা করেন সৈয়দা রোখসানা বেগম।
তারপর হায়রে আমার মন মাতানো দেশ, দেশের গানটি পরিবেশণ করেন ইয়াসমিন খায়ের। মায়ের দেয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নে রে ভাই-গানটি পরিবেশন করেন সুমি বর্মন। তারপর সঙ্গীত পরিবেশণা করেন তৌহিদ জামান
ও ইমরান রাফী। দলীয় গান: দুর্গম গিরি কান্তার মরু গানটির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা হয়।

মঞ্চের বিরাট পতাকাটি সেলাই করেছেন মাহবুবা উদ্দিন আলো। আকর্ষণীয় মঞ্চ নির্মাণ করেন লুতফর মিয়া।

অনুষ্ঠানে একটি ব্রসিওর ছাপানো হয়, এতে সংগঠনের কর্মকান্ড বিবৃত করেছেন ড: মোহাম্মদ হোসেন টিপু। ব্রসিওরটি ডিজাইন করেন ফারহানা পল্লব। সকল ছাপা কাজে ছিলেন মোহাম্মদ ফাত্তাহ্, প্রাইম প্রিন্টিং। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন একদল তরুন প্রজন্ম।

তাদের মধ্যে সারাহ্, আয়ান হোসেন, আরিশ হোসেন সাদমান সালফি শুদ্ধ উল্লেখযোগ্য। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.