
শিক্ষার্থীদের জন্য সেলফোন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড (টিডিএসবি)। অন্টারিওর শিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছে।
টিডিএসবি চেয়ার রাচেল চারনস লিন বিদ্যমান সেলফোন নীতি পর্যালোচনার আহ্বান সংবলিত একটি প্রস্তাবের নোটিশ গত ৫ ডিসেম্বর বোর্ডে জমা দিয়েছেন। বর্তমান নীতি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিশেষ শিক্ষার প্রয়োজনে সেলফোন ব্যবহার করতে পারে। তবে চারনস লিনের তথ্য অনুযায়ী, নীতিটি যেমনটা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল তেমনটা হচ্ছে না।
এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্মার্টফোন ব্যবহারের চিত্রটা নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, কল্যাণ ও অ্যাকাডেমিক সাফল্যের ওপর দুটিরই তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। শিক্ষকদের ভালো সহায়তা দেয় এমন শক্তিশালী নীতি প্রয়োজন, চূড়ান্ত বিচারে যা শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও অ্যাকাডেমিক সাফল্য অর্জনে সহায়ক হবে।
এক সাক্ষাৎকারে চারনস লিন বলেন, তার আশা নতুন সেলফোন নীতি হবে কমিউনিটির সঙ্গে পরামর্শক্রমে, যাতে করে এর সবদিক নিয়ে বোর্ড বিস্তারিত আলোচনা করতে ও তা বিবেচনায় নিতে পারে। আমরা সত্যিই দারুণ একটা নীতি চাই, যা আমাদের জন্য ভালোভাবে কাজ করবে বিশেষ করে আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য।
চারনস লিন বলেন, শিক্ষকদেরকে আমরা বলতে শুনেছি যে, শ্রেণিকক্ষে সেলফোন ব্যবহার উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা যাই শ্রেণিকক্ষে তাদের যে কাজ তার প্রতিই মনোযোগী থাকুক শিশুরা। তারা একে অপরের সঙ্গে সামনা-সামনি যোগাযোগ করুক। সবার সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে ফেরার জন্য এটা দারুণ কিছু।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি বলেছেন, পাঠে বিঘœ ঘটায় এমন সামগ্রী শ্রেণিকক্ষ থেকে সরিয়ে ফেলার ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারণ, সামগ্রী মৌলিক দক্ষতায় মনোযোগ থেকে শিক্ষার্থীদের বিরত রাখে। এই দক্ষতায় তাদের সাফল্যের পথ করে দেয়।
তিনি বলেন, শিক্ষাদানের সময় মোবাইল ফোন যাতে ব্যবহার না করা হয় সেটা নিশ্চিত করতে টিডিএসবির নীতি তৈরির যে কার্যক্রম তাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।
সেলফোন সংক্রান্ত বিষয়টি টিডিএসবি ১৮ জানুয়ারি বিবেচনায় নিতে পারে। প্রস্তাবটি গৃহীত হলে নতুন নীতি তৈরিতে কাজ করবে একটি কমিটি।

