
স্বামীর কথা মনে পড়ছিল ক্রিস্টি ফ্রিয়েজম্যানের। বলছিলেন, তার স্বামী জানতেন যে, তার ওপর জেঁকে বসা বিষণ্ণতার মেঘ শেষ পর্যন্ত কেটে যাবে, যখন ২০১৬ সালের কষ্টদায়ক ফসলের মৌসুম শেষে তার মুখে হাসি ফুটবে।
অক্টোবর ছিল ভয়াবহ। তিনটি ঝড়ের কারণে এই দম্পতির পিচ রিভার কৃষি খামারে প্রায় ২০ সেন্টিমিটার পুরু তুষার জমে ছিল। তৃতীয় ঝড়টি যখন আসে তখন ক্রিস্টির মনে হয়েছি, এটি বোধ হয় তাকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে। জানালার ফাক দিয়ে তিনি সাদা তুষারে ঢাকা ফসল দেখছিলেন। ওইদিনই তাদের ফসল কাটার আমা ছিল।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি বিছানায় বসে ছিলাম এবং কাঁদছিলাম। আমরা হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছিলাম। আমি একনাগাড়ে কেঁদে চলেছিলাম। এটা ছিল ভয়াবহ বছর।
কৃষি নিয়ে এই বিষাদের সঙ্গে অধিকাংশ কানাডিয়ান পরিবারই পরিচিত। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা, ফসলের অথবা প্রাণীর রোগ এমনকি দূরবর্তী যুদ্ধেও ওতাদের জীবন-জীবিকা প্রভাবিত হয়। কিন্তু মানসিক অসুস্থতা নিয়ে যে স্টিগমা তা তাদেরকে চুপ করিয়ে রাখে।
কৃষকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ২০১৬ সাল থেকে গবেষণা করছেন ইউনিভার্সিটি অব গুয়েল্ফের ভেটেরিনারি কলেজের অধ্যাপক আন্দ্রিয়া জোন্স। তার শিক্ষার্থী রোচেল থম্পসন এবং গবেষণা সহযোগী ব্রিয়ানা হ্যাজেনকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ কানাডিয়ান কৃষকের প্রতিক্রিয়া তিনি বিশ্লেষণ করে দেখেছেন। ২০২১ সালের ফেব্রয়ারি থেকে মে পর্যন্ত অনলাইনে পরিচালিত সার্ভে অব ফারমার মেন্টাল হেলথ কানাডায় তারা অংশ নিয়েছিলেন।
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি চারজনের মধ্যে একজন কৃষক বেঁচে থাকাকে অর্থহীন মনে করেন। তারা মরে যেতে চান অথবা গত ১২ মাসে নিজের জীবন নিজেই শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। তাদের গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যার প্রবণতা সাধারণ নাগরিকদের তুলনায় কৃষকদের মধ্যে দ্বিগুন।
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন-চতুর্থাংশ কৃষক মোটামুটি বা উচ্চ বিষাদে ভুগছেন বলে জানান। বন্যা, দাবানল, খরা ও রোগ সংক্রমণ বাড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন এই বিষাদ বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে জানান জোন্স।

