
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যে শান্তির জন্য ভিন্ন ভিন্ন উপায় দেখছে কানাডার ইহুদি ও মুসলিম গ্রুপগুলো। যুদ্ধবিরতির তৃতীয় দিনে গত ২৫ নভেম্বর হামাস যুদ্ধবিরতি শর্তের অংশ হিসেবে ১৭ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে। তাদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি মেয়ে শিশুও রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল একই দিনে ৩৯ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিয়েছে।
ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্টিফেন ব্রাউন বলেন, সহিংসতায় চারদিনের এই বিরতি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির দিকে নিয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী। স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাজ করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেবল তখনই আমরা স্থায়ী শান্তির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কাজে লাগাতে পারব, যার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ন্যায়ানুগ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
তবে ইহুদিদের সংগঠন বি’নাই বার্থের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল মসটিন বলেন, যুদ্ধবিরতি ও যুদ্ধবিরতি আনতে পারে এমন চুক্তির ব্যাপারে আমার ভাবনাটা ভিন্ন। ওই চুক্তির ফলে ৭ অক্টোবর হামাস যে ২৪০ জনকে জিম্মি করেছিল তার মধ্যে ৫০ জনকে মুক্তি দেবে। জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। তাদের ও তাদের পরিবারের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটা কেউ-ই সম্ভবত ভুলে যায়নি যে, গাজায় এখনো বিপুল সংখ্যক জিম্মি হামাসের হাতে বন্দি আছে, যেটা এই চুক্তির অংশ নয়। সুতরাং, মিশ্র অনুভূতি হওয়ারই কথা। কারণ, আমরা চাই সব জিম্মিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক।
যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইসরায়েল বলেছে, প্রতি ১০ জন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার বিপরীতে একদিন করে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়তে পারে। তবে এটা শেষ হওয়ার পর অভিযান পুনরায় শুরু করার অঙ্গীকার করেছে ইসরায়েল।
মস্টিন বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব সব জিম্মির মুক্তি দেখতে চান তিনি। তবে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার ব্যাপারে তিনি সন্দিহান।
ব্রাউন বলেন, যুদ্ধবিরতি কানাডায় উত্তেজনা কমাবে বলে তার বিশ^াস। এখানে ইহুদি ও মুসলিমদের লক্ষ্য করে হেইট ক্রাইমের ঘটনা বেড়ে গেছে।

