
‘সংস্কৃতির সংগ্রামে দ্রোহের দীপ্তি, মুক্তির লড়াইয়ে অজেয় শক্তি’- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে গত ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কানাডা সংসদ কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে উদযাপন করলো উদীচীর ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও উদীচী কানাডা’র ২৫তম বর্ষপূর্তি । ১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর শিল্পী-সংগ্রামী, কৃষক নেতা সত্যেন সেন, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক রণেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লাহ কায়সারসহ একঝাঁক প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী ও তরুণের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। লক্ষ্য ছিল একটি শোষণমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। সেই উদ্দেশ্যেই দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে আসছে উদীচী। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ বছর আগে কানাডায় গঠন করা হয় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কানাডা সংসদ।
টরোন্টোর হোপ ইউনাইটেড চার্চে সন্ধ্যা ৬টায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শুরু হয় উদীচীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা।
অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ সভাপতি সৌমেন সাহা ও অন্যতম উপদেষ্টা মাহবুব আলম। অন্টারিওর প্রাদেশিক সংসদ সদস্য ডলি বেগম তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশে উদীচী কানাডার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এই অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় বিদ্যুৎ রঞ্জন দে, আজিজুল মালিক ও নুরুল আলম লালকে তাঁদের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ। তাঁদেরকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হোসেন মনা ও উদীচীর অন্যতম উপদেষ্টা আলেয়া শরাফী।
নতুন প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি উৎসাহিত করার জন্য উদীচী গত মাসে শিশু-কিশোরদের নিয়ে নৃত্য, আবৃত্তি, সঙ্গীত, চিত্রাঙ্কন ও তবলা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। এই অনুষ্ঠানে বিজয়ী প্রতিযোগীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেয়া হয়। প্রতিযোগিতায় শিশু-কিশোরদের আঁকা ছবি দিয়ে তৈরী ২০২৪ সনের ক্যালেন্ডারের মোড়ক উন্মোচন করেন উদীচীর অন্যতম উপদেষ্টা বিদ্যুৎ রঞ্জন দে। এছাড়া উদীচী কানাডা সংসদের ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন কানাডা উদীচীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আজিজুল মালিক ও স্বপন বিশ্বাস।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে নৃত্য পরিচালনা করেন নৃত্যশিল্পী বিপ্লৱকর, গানের অংশটি পরিচালনা করেন ডঃ মমতাজ মমতা এবং কবিতার অংশটি পরিচালনা করেন শিউলি জাহান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে উদীচী শিল্পীরা সমবেত সংগীত, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশন করেন। এ পর্বের নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন সীমা বড়ুয়া। উদীচী শিল্পীরা কাজী নজরুল ইসলামের ‘কারার ঐ লৌহকপাট ‘ গানটি করেন।
উদীচীর সম্মেলনে গান ও আবৃত্তিতে ছিলেন:জয় দাশ, সুভাষ রায়,কাজী জহির উদ্দীন, দেবাশীষ দেব চৌধুরী,ড:ইকবাল আহমেদ, ডঃ মমতাজ মমতা,সীমা দাশ, কাবেরী দত্ত, ইন্দ্রাণী দাশগুপ্তা,রোকেয়া পারভীন, কনিকা ব্যানার্জী,স্বর্ণালী আদিত্য, রিম্মি মজুমদার, মিনাক্ষী চক্রবর্তী,হ্যাপী রায় সেন,মাধুরী মৌমিতা বৃষ্টি,মিনারা বেগম ও সুভাষ দাশ। নৃত্যাংশে:সুবাহ জামান রোদেলা,আলভিনা চৌধুরী ও সুকন্যা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে তবলায় সংগত করেন শিল্পী অপরূপ বডূয়া, কিবোর্ডে ছিলেন মেহেদি ফারুক। সমগ্র অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় ছিলেন: সুভাষ রায় ও কাবেরী দত্ত।
সবশেষে সংগঠনের সভাপতি সুভাষ দাশ ও সাধারণ সম্পাদক মিনারা বেগম উপস্থিত সকল দর্শক শ্রোতা, কলাকুশলী, উদীচীকর্মী ও পৃষ্ঠপোষকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

