
সার্ভিক্যাল ক্যানসার হচ্ছে কানাডায় সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া ক্যানসারের ধরন এবং এটি প্রায় পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। বিষয়টি নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বুধবার অটোয়াতে সমবেত হয়ে স্ক্রিনিং, প্রতিরোধ এবং ভ্যাকসিনেশনে গতি আনতে ফেডারেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সোসাইটি অব গাইনিকোলজিক অনকোলজি অব কানাডা, উইমেন’স হেলথ কোয়ালিশন এবং ১৯টি গ্রুপের প্রতিনিধিরা উদ্বেগজনক এই প্রবণতার অবসানে আইনপ্রণেতাদের কাজ করার আহ্বান জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সোসাইটি অব গাইনিকোলজিক অনকোলজি অব কানাডার প্রেসিডেন্ট ডা. শ্যানন সালভাদর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রথম ক্যানসার হিসেবে কানাডা থেকে সার্ভিক্যাল ক্যানসার নির্মুল করার মতো সামর্থ্য আমাদের রয়েছে। আমাদের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। আমাদের এখন প্রয়োজন শুধু রাজনৈতিক ইচ্ছা।
কানাডা ২০২৪০ সালের আগেই সার্ভিক্যাল ক্যানসার নির্মুলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অস্ট্রেলিয়া এবং সুইডেনের মতো দেশ সার্ভিক্যাল ক্যানসার নির্মুলের কাছাকাছি রয়েছে। প্রতি এক লাখ মানুষে এই দুই দেশে সার্ভিক্যাল ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী মাত্র চারজন।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে উইনিপেগের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সারাহ কিন বলেন, কানাডায় এই হার দ্বিগুণ এবং তা বাড়ছে। আমাদের বোন, আমাদের মা এবং আমাদের কন্যাদের আমরা রক্ষা করতে পারছি না।
৯০ শতাংশের বেশি সার্ভিক্যাল ক্যানসারের জন্য দায়ী হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা এইচপিভি। ৭৫ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে একবার হলেও এইচপিভি সংক্রমণের শিকার হয়। কয়েক বছর ধরেই খুবই কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে এবং স্কুলগামী শিশুদের জন্য এক ডোজের সুপারিশ করেছে ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন ইমিউনাইজেশন। এটা ভাইরাসটির কারণে সৃষ্ট ৯০ শতাংশ ক্যানসার প্রতিরোধে সক্ষম। কানাডাসহ ১৪টি দেশের ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত উপাত্ত পরীক্ষা করে দেখা গেছে, যেসব মেয়ে ভ্যাকসনিটি নিয়েছে তাদের মধ্যে এইচপিভির কারণে সৃষ্ট দুই ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি ৮৩ শতাংশ কমে গেছে।

