
কানাডায় আয় বৈষম্য রেকর্ড সর্বোচ্চে রয়েছে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সম্প্রতি প্রকাশিত উপাত্তে এমনটাই জানা গেছে। প্রতিবেদনে ধনী গ্রুপ ও ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে হিমশিম খাওয়া গ্রুপ বিশেষ করে তরুণ পরিবারগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান আয় বিভাজনের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অধিকন্তু, ধনী পরিবারগুলো কানাডায় সম্পদের সিংহভাগ ধরে রাখা অব্যাহত রেখেছে এবং এই প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে।
একাধিক প্রতিবেদন বলছে, কানাডায় বেকারত্বের হার বাড়ছে এবং পরিবারগুলো জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসন ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ ও শুল্ক নীতিও কানাডিয়ান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পরিবারগুলোকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। পণ্য ও সেবার মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে এই বাণিজ্য যুদ্ধ ও শুল্ক নীতি।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে আয় বৈষম্য ছিল ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের মতো এবং সর্বকালের সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে অর্থনীতিকেও নানা চ্যালেঞ্জ অব্যাহতভাবে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয় বৈষম্য রেকর্ড সর্বোচ্চে ছিল। এর কারণ, দুর্বল অর্থনীতি, যা পরিবারগুলোর আয় ও নিট সঞ্চয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আর্থিক বাজারের ভালো অবস্থানের সুবিধা ঘরে তুলছে সম্পদশালী গ্রুপটি, যা আয় বৈষম্যকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আয় বৈষম্য হিসাব করা হয় দেশব্যাপী ব্যয়যোগ্য আয় বণ্টনের ভিত্তিতে। বিশেষ করে শীর্ষ ৪০ শতাংশ ব্যয়যোগ্য আয়ের মালিক ও সবচেয়ে নিচের ৪০ শতাংশ ব্যয়যোগ্য আয়ের মালিক পরিবারগুলোর মধ্যে তুলনাই আয় বৈষম্য। সব ধরনের কর ও বাধ্যতামূলক মাশুলগুলো পরিশোধের পর কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের হাতে যে অর্থ থাকে সেটাই ব্যয়যোগ্য আয় বা ডিসপোজেবল ইনকাম। এই আয় ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালে এই আয় বেড়েছিল ২০২৩ সালের তুলনায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

