
ফোবানা আয়োজনে মন্ট্রিয়ল যেনো এখন একটি ব্র্যান্ড শহর। নর্থ আমেরিকার সেরা সাংস্কৃতিক নগরী হিসেবে খ্যাত এ শহরটিতেই গত চার বছরে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ফোবানা সম্মেলন। আর তিনটি সম্মেলনের গায়েই সাফল্যের তকমা। উচ্ছ্বাস তাই মন্ট্রিয়লবাসীর এবং সংশ্লিষ্ট আয়োজক সংগঠনগুলোর।
গত ২৯ আগস্ট থেকে তিনদিনব্যাপী ৩৯তম ফোবানী সম্মেলনের আয়োজন করে সৃজনশীল সংগঠন হিসেবে খ্যাত কানাডা বাংলাদেশ বাংলাদেশ সলিডারিটি। রেকর্ড সংখ্যক শিল্পী-কলাকুশলীর উপস্থিতিতে এবারের সম্মেলনে ছিলো নানা আয়োজন। দীর্ঘ বিরতীতে মন্ট্রিয়ল ডাউনটাউনের হোটেল প্লাজাতে (বর্তমানে ইভো সেন্টার) অনুষ্ঠিত হয়। নানা চমকে ভরা ছিলো এবারের সম্মেলন। ফোবানার মতো বড় ইভেন্টে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকবেই। সেটিকে স্বাভাবিক ধরেই বলা যায় সফল ফোবানার মুখ দেখেছে মন্ট্রিয়লসহ উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশীরা। আরও বলা যায় বর্তমানে বিভক্ত ফোবানার কারণে একই দিনে, একই সময়ে আমেরিকার বাফেলোসহ তিনটি শহরে অনুষ্ঠিত হয় ফোবানা সম্মেলন। জানা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ফোবানার চিত্রই ছিলো বেশ রুগ্ন। সম্মেলন স্থানের আকৃতি ও দর্শক উপস্থিতি ছিলো মন্ট্রিয়ল ফোবানার সাথে তুলনামূলক অনেক কম।
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ফোবানা সম্মেলনের সূচনা হলেও এদিন ছিলো শুধু গালা নাইট। আমন্ত্রিত শিল্পি-কলাকুশলী, স্পন্সর, সাংবাদিক ও আয়োজক কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন এ গালা নাইটে। বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শামসাদ রানার উপস্থাপনায় সম্মেলন কমিটির কনভেনর জিয়াউল হক জিয়া পরিচয় করিয়ে দেন বাংলাদেশ থেকে উড়ে আসা শিল্পীদেও এবং ফোবানা স্টীয়ারিং কমিটির কর্মকর্তা ও স্পন্সরদের। সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজ দিয়ে শেষ হয় দারুন উপভোগ্য এ গালা নাইট।
পরদিন শনিবার, ৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় মন্ট্রিয়লের ২৭ জনের কণ্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠে ৩৯তম ফোবানা সম্মেলনের। বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবারের এ সম্মেলনের। দু’দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে চারটি বিষয়ে ও সোয়েব সাঈদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় অর্থবহ একটি সেমিনার শনিবার দুপুরে। সন্ধ্যায় স্থানীয় শিল্পীদের মূল মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কাব্য জলসা। রোববার দিন থেকে রাত আড়াইটা অবধি একের পর এক আয়োজন। দিনে বিজনেস সামিট, নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে সামিট, ফোবানা স্টীয়ারিং কমিটির এজিএম ও নির্বাচন। বিজনেস সামিটের কীনোট স্পীকার ছিলেন বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব কানাডা বিবিসিসি’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও এনআরবি টিভির সিইও শহিদুল ইসলাম মিন্টু। চীফ গেস্ট ছিলেন বিবিসিসি’র এ্যাডভাইজর ও ফোবানার ব্রান্ড এ্যাম্বাসেডর শামীমুল হাসান। সঞ্চালনায় ছিলেন বিবিসিসির ডিরেক্টর ও বিজনেস সামিট কমিটির প্রধান মাসুদ সিদ্দিকী।
সন্ধ্যা থেকে মূল মঞ্চে স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পিদের মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এওয়ার্ড সেরিমোনি সহ নানা কিছু। ু’দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে দেশ থেকে উড়ে আসা চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া, চিত্রনায়ক জায়েদ খানের দুর্দান্ত পারফরমেন্স, ইতিশা চৌধুরীর ফ্যাশন শো, মন্ট্রিয়লের নৃত্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে দু’দুটি নাচ, বিন্দুকনার গান। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে আসা বাংলাদেশের শিল্পী কাজল, স্বীকৃতি, মমো এবং আর্ক ব্যান্ডের হাসানের পরিবেশনা ছিলো একই মঞ্চে।
তবে ফোবানার যে মূল উদ্দেশ্য, বছরে একবার উত্তর আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশীদের মিলনমেলা তা পলে পলে উপভোগ করা গেছে এবারের ফোবানা মন্ট্রিয়ল সম্মেলনে। দু’দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় ছিলেন জনপ্রিয় উপস্থাপিকা, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শামসাদ রানা ও লাবলু আকন।
বলাবাহুল্য, এবারের ফোবানাকে সফল করে তুলতে গত এক বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন জিয়াউল হক জিয়া, মেম্বার সেক্রেটারী ইকবাল কবির, কালচারাল ডাইরেক্টর শামসাদ রানাসহ প্রায় দেড় শতাধিক সদস্য নিয়ে গঠিত ফোবানা কমিটির চীফ কো-অর্ডিনেটর আবুল হোসেন দুদাল, চীফ কনসালটেন্ট কামাল চৌধুরী, পাবলিক রিলেশন কো-কনভেনর এসএস উল্লাহ কোয়েল, ইয়ুথ ফোরামের কো-কনভেনর ইমরুল কায়েসসহ আরো অনেকে।
উল্লেখ, তিনদিনব্যাপী ফোবানা সম্মেলন শেষ হয়েছে ঠিকই কিন্তু আলোচনার রেশ যেনো এখনও কাটেনি। চলবে বোধহয় আরও কিছুদিন এ ফোবানার নানা সফলতা নিয়ে।

