
জুলাইয়ে ৪১ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে বলে শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা। যদিও অর্থনীতিবিদরা মাসটিতে কর্মসংস্থান সামান্য বাড়বে বলে প্রত্যাশা করেছিলেন।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ৯ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। একইভাবে চাকরি সন্ধানকারীর সংখ্যাও মাসিকভিত্তিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।
জুলাইয়ে অর্থনীতি ৫১ হাজার পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান হারিয়েছে। এর বেশিরভাগই ছিল বেসরকারি খাতে। কর্মসংস্থান হ্রাসে নেতৃত্ব দিয়েছে তথ্য, সংস্কৃত এবং বিনোদন খাত। এরপর কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি হ্রাস পেয়েছে নির্মাণ খাতে।
বিএমওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ডগ পর্টার বলেন, জুলাইয়ে কর্শসংস্থানের যে চিত্র গত তিন বছরের মধ্যে তা সবচেয়ে দুর্বল। মাসটিতে মোট কর্মঘণ্টা দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ, কানাডার অর্থনীতির তৃতীয় প্রান্তিকটি বাজেভাবে শুরু হলো। এটা দ্ব্যর্থহীনভাবে দুর্বল প্রতিবেদন।
জুলাইয়ে র্কসংস্থান হ্রাসের প্রভাব কিছুটা হলেও পুষিয়ে দিয়েছে জুনে ৮৩ হাজার কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। জুলাইয়ে ঘণ্টাপ্রতি গড় মজুরি জুনের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা বলছে, জুলাইয়ে চাকরিচ্যুতির হার এক বছর আগের একই সময়ের মতোই অর্থাৎ অপরিবর্তিত ছিল। মাসটিতে ছাাঁটাইয়ের হার ছিল ১ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও চাকরিচ্যুতিতে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি।
উৎপাদন শিল্প এবং পরিবহন ও ওয়্যারহাউস খাতে জুলাইয়ে কর্মসংস্থান বেড়েছে। যদিও খাত দুটিতে শুল্কের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে বলে মনে করেছিলেন বার্নার্ড।
অঞ্চলগতভাবে কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি হ্রাস পেয়েছে আলবার্টা ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায়। কুইবেক কিংবা অন্টারিওতে নয়।
গত মাসে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে কর্মসংস্থান কমেছে ৩৪ হাজার। এই বয়স শ্রেণির মানুষের মধ্যে বেকারত্বের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ, ১৯৯৮ সালের পর যা সর্বনি¤œ।
জুলাইয়ে যে ১৬ লাখ মানুষ কর্মহীন ছিলেন তাদের ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ দীর্ঘদিন ধরেই বেকার রয়েছেন। এর অর্থ হলো তারা ২৭ সপ্তাহ অথবা তার বেশি সময় ধরে চাকরির খোঁজে রয়েছেন। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার হিসাবে, মহামারির সময়কে বাদ দিলে ১৯৯৮ সালের পর দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের এটাই সবচেয়ে বড় হিস্যা।

