
বিতর্কিত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের প্রতি শক্ত অবস্থান নিয়েছে কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনী। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে শুল্ক আরোপের হুমকি পাওয়ার পর ভারত ও স্পেন যুদ্ধবিমানটি প্রত্যাখ্যান করেছে। সুইজারল্যান্ডের রাজনীতিকরাও বৃহস্পতিবার যুদ্ধবিমানটির ক্রয় বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির ওপর ৩৯ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর তারা এই আহ্বান জানালেন।
রয়টার্স গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ৮৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের প্রস্তাবে কানাডা যাতে অটুট থাকে সেই সুপারিশ করেছে কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনী। এই সুপারিশকে পর্যবেক্ষকদের কাছে বিস্ময়কর কিছু মনে হয়নি। কারণ, কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি স্টিলথ ফাইটারের জন্য লবিং এবং নির্বাচন করেছে।
এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্রয় পরিস্থিতি পর্যালোচনার যে আদেশ প্রধামন্ত্রী মার্ক কার্নি দিয়েছেন সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনী।
কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কানাডিয়ান অর্থনীতিতে হুমকি সৃষ্টি করা সত্ত্বেও দুই বাহিনীর মধ্যে অধিকতর সম্পৃক্তকরণ ও সহযোগিতার কথা বলছে তারা।
এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনা হবে কিনা সে সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। এই মুহূর্তে কানাডা কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে ১৬টি জেট কেনার ব্যাপারে আর্থিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুরো ক্রয়াদেশটি ৮৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের, যা তৈরি করে আমেরিকান ডিফেন্স জায়ান্ট লকহিড মার্টিন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিনটি বলেছেন, গ্রীষ্মের শেষ দিকে পর্যালোচনা শেষ হবে এবং জনসমক্ষে তা প্রকাশ করা হবে।
ইউরোপে তৈরি ইউরোফাইটারের দিকে নজর দিতে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এফ-৩৫ সম্প্রতি প্রত্যাখ্যান করেছে স্পেন। দেশটি সামরিক খাতে ব্যয় যথেষ্ট পরিমাণে না বাড়ানোয় ট্রাম্প তাদের অর্থনৈতিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। ভারত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশটির ওপর বিপুল পরিমাণ শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।

