
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের কারণে কানাডার অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে। এই অবস্থায় কানাডিয়ানরা নতুন গাড়ি কিনছেন খুব কমই। তাহলে কি ব্যবহৃত গাড়ি বাজারে তাদের ভাগ্য যাচাই করে দেখবেন? ভোক্তারা এখন এমন সিদ্ধান্তের মধ্যে পড়েছেন।
গত মে মাসে কানাডিয়ান ভোক্তারা ব্যয় করেছেন কম। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাসটিতে কানাডায় খুচরা বিক্রি ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৯২০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
খুচরা বিক্রয় হ্রাসের বড় শিকার হয়েছে কানাডার গাড়ি শিল্প। মে মাসে মোটর গাড়ি ও যন্ত্রাংশের বিক্রি কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিএমওর অর্থনীতিবিদ শেলি কৌশিক বলেন, শুল্ক বলবৎ হওয়ার আগে বিপুল সংখ্যক ক্রেতার ডিলারদের কাছে গিয়ে গাড়ি ও যন্ত্রাংশ কেনার গল্প শুনেছিলাম। এপ্রিলে আমরা সত্যিই তেমনটা দেখেছিলাম। সুতরাং, মে মাসে শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাড়ি বিক্রি কমে যাবে এমনটা প্রত্যাশিতই ছিল।
বিশেষ করে নতুন গাড়ির ডিলারদের বিক্রি কমেছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম কানাডায় নতুন গাড়ির বিক্রি হ্রাস পেল। এমনটাই জানাচ্ছে স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা।
নতুন গাড়ির বিক্রি কমার বিপরীতে কিছু ব্যবহৃত গাড়ির প্ল্যাটফরম ও ডিলার বলেছেন, তাদের বিক্রি বেড়েছে। ইউজড কার ই-কমার্স প্ল্যাটফরম ক্লাচের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড্যান পার্ক বলেন, মে মাসে আমাদের বিক্রি ব্যাপক বেড়েছে। আমাদের যেমন অন্য ডিলারদের ক্ষেত্রেও এটা সমভাবে প্রযোজ্য বলে আমি মনে করি। মে মাসে ব্যবহৃত গাড়ির চাহিদা উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। মাসভিত্তিক আমাদের বিক্রি প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে, যা সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ।
পার্ক বলেন, সামনের মাসগুলোতেও ব্যবহৃত গাড়ির বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছে তার প্ল্যাটফরমটি। জুলাই সম্ভবত হতে যাচ্ছে রেকর্ড বিক্রির মাস।
বাণিজ্য যুদ্ধের চাপ অব্যাহত থাকায় নতুন গাড়ির বিক্রি হ্রা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। পার্ক নতুন গাড়ি বিক্রি হ্রাসের পেছনে উচ্চ মূল্যকে কারণ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, এই চাহিদা সম্ভবত পুরোনো গাড়িতে স্থানান্তরিত হবে। পুরোনো গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধির ফলে মূল্য বাড়বে। কারণ, পুরোনো গাড়ির চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ কিন্তু নির্দিষ্ট।

