বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৮, ২০২২
27.2 C
Toronto

Latest Posts

আর কতদিন ভাড়া থাকবেন

- Advertisement -
ছবি/জ্যাকুজ বব

সাজু ভাই এবং মুনিরা ভাবী টরন্টো এসেছেন ২০১৮ সালে। ৪ বছর ধরে মেসি স্কয়ারের এক বেডরুমের কন্ডোতে ভাড়া থাকছেন। টরন্টোয় সেদিন এক হাউজ ওয়ার্মিং পার্টিতে (নতুন বাড়িতে ওঠা উপলক্ষে অনুষ্ঠান) তাদের সাথে পরিচয়।

দুজনেই ভালো চাকরি করেন। দুই ছেলে মেয়ে। মেয়ে এবার ৫ বছর শেষ করে ৬ এ পা রেখেছে। ছেলের বয়স ২ বছর।
সাজু ভাই বললেন, এক বেডরুমের এপার্টমেন্টে থাকা খুব মুশকিল এখন। আবার দুই বেডরুমের বাসা ভাড়া অনেক বেড়েছে! মেসি স্কয়ারে মাসে ২১০০ থেকে ২২০০ ডলারের নিচে আর ভাড়া নেই। এখন তিনি ১৫০০ ডলার দিয়ে থাকেন। ২ বেডরুমের বাসায় উঠতে গেলে পকেট থেকে আরও ৬০০-৭০০ ডলার চলে যাবে।
বাড়ি কেনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বললেন বাড়িতে অনেক খরচ। চালাতে হিমশিম খেতে হবে। মর্টগেজ, মেইন্টেন্যান্সের অনেক ঝামেলা, ডাউন পেমেন্ট দিলে হাতে আর কোন পুঁজিই থাকবে না। জরুরি অবস্থায় কীভাবে সামলাবো।

- Advertisement -

আমার কাছে মনে হলো সাজু ভাই এবং মুনিরা ভাবীকে হয় কেউ ভুল বুঝিয়েছে অথবা কারো কাছ থেকে সঠিক পরামর্শ তারা পাননি। তাই বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তটা এখনও নিতে পারেননি।
জিজ্ঞেস করলাম, ৪ বছরে মাসে গড়ে কত করে ভাড়া দিয়েছেন। বললেন তা প্রায় ১২০০ ডলার করে হবে। তাহলে ৪ বছরে আনুমানিক ভাড়া বাবদ তিনি ব্যয় করেছেন (৪x১২ x ১২০০) = ৫৭,৬০০ ডলার। এখন তিনি ৫ম বছরে পা দিবেন। আর আগের মতই এভাবে ভাড়া দিয়েই যাবেন।

তারমানে গত ৪ বছরে তিনি ইতোমধ্যে বাড়িওয়ালার ৫৭,৬০০ ডলার (আনুমানিক) মর্টগেজ পে করেছেন এবং এখনো তা করেই যাবেন। বাড়িওয়ালা যদি সেই সময়ে ৩ লাখ ডলার দিয়ে এই কন্ডোটি কিনে থাকেন তাহলে ইতোমধ্যে মর্টগেজের বড় একটা অংশ পরিশোধ হয়েছে। পাশাপাশি ৪ বছরে দামও কমপক্ষে এক লাখ ডলার (বছরে ২৫ হাজার) বেড়েছে।

সাজু ভাই এবং মুনিরা ভাবীকে বিষয়টা বললাম। তারাও যেন একটু নড়েচড়ে বসলেন। তাদের গল্পটা হয়তো অন্যরকমও হতে পারতো।

ধরাযাক এক বছর ভাড়া থাকার পর ২০১৯ সালে সাজু ভাই আর মুনিরা ভাবী ৩৫০,০০০ ডলারের একটি কন্ডো কিনেছেন। প্রতি বছর ৫% করে বছরে যদি গড়ে (৩৫০০০০ x ০.০৫) = ১৭ হাজার ৫০০ ডলার কন্ডোর দাম বাড়ে তাহলে ৩ বছরে (১৭,৫০০ x ৩) = ৫২,৫০০ ডলার দাম বেড়ে যেত।

আনুমানিক ৫% করে বছরে দাম বাড়ার হিসেব হচ্ছে সবচেয়ে কম পারসেন্টেইজ যদি ধরি তখন। যদিও বাস্তবে প্রতি বছর বাড়ির দাম বৃদ্ধি ছিল আরো অনেক বেশি। আপনারা বাড়ির মার্কেট যাচাই করলেই তা দেখতে পারবেন।
কন্ডো কিনলে যেহেতু সাজু ভাই আর মুনিরা ভাবী মর্টগেজ দিতেন তাই ধরে নিলাম গড়ে প্রতি মাসে যা ভাড়া দিয়েছেন এর সমপরিমাণ (১২০০ ডলার) মর্টগেজ দিতে হয়েছে। তাহলে এতদিনে মর্টগেজের ($১২০০ x ১২ x ৩) =৪৩,২০০ ডলার পরিশোধ হত। এর মধ্যে অর্ধেকটা ধরলাম প্রিন্সিপাল এমাউন্ট আর বাকিটা ইন্টারেস্ট। অর্থাৎ ২১,৬০০ ডলার তাদের ব্যাংকের মর্টগেজ এমাউন্ট থেকে কমে যেত।

বাড়ির দাম বাড়ার ফলে ৩ বছর পর সাজু ভাই আর মুনিরা ভাবীর ইকুইটি গেইন থেকে লাভ হতো ৫২,৫০০ ডলার এবং ২১,৬০০ ডলার মর্টগেজও কমে যেত। তারমানে প্রায় ৭৪,১০০ ডলার হাতে থাকতো। উল্টো ৩ বছরে ভাড়া বাবদ তাদের ব্যয় করতে হল প্রায় ৪৩,২০০ ডলার।

তাদের ক্ষতি কি কেবল এতটুকুই? না, বাস্তবে ক্ষতি হয়েছে এর চেয়েও বেশি। যদি বছরে ১৭ হাজার ৫০০ ডলার করে বাড়ির দাম বাড়ে তাহলে প্রতি বছরে সাজু ভাই আর মুনিরা ভাবীর সামর্থও ১৭ হাজার ৫০০ ডলার করে কমেছে। যদিও আগেই আপনাদের বলেছি বাস্তবে তা আরো অনেক বেশি হবে।
বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে সাজু ভাই আর মুনিরা ভাবীদের মত ফার্স্ট টাইম হোম বায়ারদের একটা লম্বা সময় চলে যায়। তাদের মত অনেকেরই একই অবস্থা।

অনেক বায়ার আছেন যাদের হয়তো দাম এবং চাহিদা দুটোই মিলছেনা। আবার বাড়ি পছন্দ হলেও লোকেশন পছন্দ হচ্ছেনা আবার লোকেশন মিললেও দামে হচ্ছেনা। বাড়ি কেনার জন্য অপেক্ষার পালা আরও বাড়ছে। অন্যদিকে দামও ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আপনি ৩ বছর আগের দামের সাথে এখনকার দামের একটা তুলনা করলে নিজেই বুঝতে পারবেন।

মেসি স্কয়ারে গত বছরও ২ বেডরুমের কন্ডো আমরা কেনা-বেচা করেছি ৪৬০,০০০ ডলার থেকে ৫০০,০০০ ডলারের এর মধ্যে। এখন ২ বেডরুমের কন্ডোর দাম ৫৪০,০০০ ডলারের নিচে নাই।
সব শুনে সাজু ভাই আর মুনিরা ভাবী জানতে চাইলেন তারা এখন কি করতে পারেন।
তাদেরকে কিছু পরামর্শ দিলাম যা হয়ত আপনাদেরও কাজে লাগতে পারে।
– শুরুতে নিজে থেকে খোঁজ করতে পারেন। যেমন realtor.ca এর ওয়েবসাইটে অথবা আমার নিজস্ব ওয়েবসাইট osmanihomes.com এও খোঁজ করতে পারেন। দেখে নিতে পারেন কোন এলাকা আপনার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। কোন এলাকায় কেমন দামে বিক্রি হচ্ছে, বাজেটের মধ্যে কি ধরনের বাড়ি আছে।
– ডাউন পেমেন্ট কীভাবে আসবে, কীভাবে ব্যাংকে তা রাখতে হবে তা জানা।
– ক্রেডিট হিস্ট্রি ভালো রাখা। এজন্য নিয়মিত ক্রেডিট ব্যবহার করা এবং সময়মত সবরকমের বিল পরিশোধ করা। কোন লেট পেমেন্ট যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা।
– বাড়ির মার্কেটে ঢোকার আগে যেন কোন ক্রেডিটে হিট না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।
– সর্বোচ্চ কত দামের মধ্যে বাড়ি কিনতে পারবেন তা জেনে নেওয়া। এক্ষেত্রে রিয়েল এস্টেট এজেন্ট এবং মর্টগেজ এজেন্টের পরামর্শ নিবেন।
– সব জেনে বুঝে এরপর বাড়ির মার্কেটে পা রাখবেন।

ফার্স্ট টাইম বায়ারদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বাড়ির মার্কেটে ঢোকা। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয় না যদি সবকিছু ঠিকঠাক মত চলে।
বাড়ি কেনার সঙ্গে অসম্ভব এক আবেগ জড়িয়ে থাকে। তাই বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত হয়তো হুট করে নেয়া যায় না। আবার বেশি দেরি করলেও কেনার ক্ষমতা দিন দিন হারাতে থাকবেন।
সাজু ভাই এবং মুনিরা ভাবী এতদিন বুঝে উঠতে পারেননি। সেজন্য হয়তো তারা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেছেন। তাই বলে আপনি বসে থাকবেন কেন?

কানাডায় আপনি নতুন কিংবা পুরনো যাই হোন না কেন, নিজেদের একটা বাড়ি, একটা স্বপ্নের বাড়ি কেনার প্রাথমিক প্রস্তুতিটা এখনই সেরে রাখুন।
বাড়ি কেনা-বেচা সংক্রান্ত যে কোন পরামর্শের জন্য যে কোন সময়ে আমাকে ফোন করতে পারেন:- 647-572-5600 এই নম্বরে। অথবা ই-মেইলেও যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায়- [email protected]। আমি সম্পূর্ণ ফ্রিতে তথ্য দেই এবং এর বিনিময়ে আমার কাছ থেকে বাড়ি কেনা অথবা বেচা বাধ্যতামূলক নয়!
আপনাদের সকলের সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর জীবন কামনা করি ।

 

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.