শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ১০:৪১ am

প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো বললেন, এটা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড


প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো বললেন, এটা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড

ছবি/হাউজ অব কমন্স

অন্টারিওর লন্ডনে ট্রাক উঠিয়ে দিয়ে একটি মুসলিম পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা ও আরও একজনকে আহত করার ঘটনাকে সন্ত্রাসী কর্মকা- বলে আখ্যায়িত করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। নিহতদের স্মরণে হাউজ অব কমন্সে কিছু সময় তিনি নীরবতা পালন করেন। 

তিনি বলেন, পাশবিক, কাপুরুষোচিত ও নির্লজ্জ হামলার মাধ্যমে তাদের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটা সন্ত্রাসী কর্মকা- এবং ঘৃণা থেকেই এটা তৈরি হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যায় পরিবারটির সদস্যরা হাঁটতে বের হলে একজন পিক-আপ ট্রাক চালক ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ওপর ট্রাকটি তুলে দেন। ধর্ম বিশ^াসের কারণেই এ হামলার শিকার হতে হয়েছে তাদের। এ ঘটনায় ২০ বছর বয়সী চালক ভেল্টম্যানের বিরুদ্ধে হত্যার চারটি ও হত্যাচেষ্টার একটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো এ ঘটনায় আতঙ্কিত জানিয়ে এই কঠিন সময়ে সরকার নিহতদের পরিবারের সদস্যদের পাশে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দেশের আরও অনেকেই অপমান, হুমকি ও সহিংসতার সম্মুখীন হচ্ছেন। মুসলিম ধর্ম বিশ^াসের কারণেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে হচ্ছে তাদের। কানাডায় এটা ঘটছে এবং এটা আমাদের অবশ্যই থামাতে হবে।

এ ঘটনায় লন্ডন ও সমগ্র কানাডার মুসলিম কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন কনজার্ভেটিভ নেতা এরিন ও’টুল। 

কানাডায় সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর দিকে চোখ ফেরালে দেখা যাবে, ২০১৭ সালে মুসলিমদের উদ্দেশ্য করে পুলিশের খাতায় নথিভূক্ত হেট ক্রাইম বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪৯টিতে। ২০১৬ সালের তুলনায় সংখ্যাটি ১৫১ শতাংশ বেশি। ২০১৬ সালে এ ধরনের ঘটনা নথিভূক্ত হয়েছিল ১৩৯টি। কুইবেক সিটি মসজিদে গুলিবর্ষণে ছয় জন নিহতের ঘটনাটি ছিল এর পরের বছর ২০১৭ সালে। যদিও স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার হিসাবে দুই-তৃতীয়াংশ হেট ক্রাইমের ঘটনাই নথিভূক্ত হয় না। 

রোববারের ওই ঘটনায় এনডিপি নেতা জাগমিত সিং বলেন, অনেকেই বলে থাকেন, এই কানাডা তাদের নয়। তারা কেন বলেন আমি সেটা বুঝতে পারি। বাস্তবতা হলো কানাডা বর্ণবাদ, সহিংসতা ও আদিবাসীদের ওপর গণহত্যা চালানোর স্থান হয়ে উঠেছে। মুসলিমার এখানে নিরাপদ নয়। ভয়ের মধ্যে বাস করতে হয় তাদেরকে। এজন্য আমি দুঃখিত। 

 

Comments