মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ৮:৩৯ am

কোন ভ্যাকসিন সেরা ?

কোন ভ্যাকসিন সেরা ?

ফাইল ছবি

কে কোন ভ্যাকসিন নেবেন তা নিয়ে ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন প্যানেলের সুপারিশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিক। কানাডিয়ানদের প্রতি তারা এই আহ্বান জানাচ্ছেন যে, প্রথম যে ভ্যাকসিনটি নেবেন সেটাই তাদের জন্য সেরা ভ্যাকসিন।

এই আহ্বান জানানো ব্যক্তিদের মধ্যে আলবার্টা ও নিউ ব্রান্সউইকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও রয়েছেন। দুটি প্রদেশেই অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন গ্রহণের পর রক্ত জমাট বেধে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

আলবার্টা স্বাস্থ্য বিভাগের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. দিনা হিশ মঙ্গলবার বলেন, যেকোনো মৃত্যুই দুঃখজনক। কিন্তু এটা মনে রাখা দরকার যে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নেওয়ার যে ঝুঁকি না নেওয়ার ঝুঁকি তার চেয়ে অনেক বেশি। 

অ্যাস্ট্রাজেনেকা বা জনসন অ্যান্ড জনসনের ভ্যাকসিন নেওয়ার পর পাশর্^প্রতিক্রিয়া হিসেবে থ্রম্বোটিক থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া অথবা ভিআইটিটি দেখা দেওয়ার ঝুঁকি প্রতি এক থেকে আড়াই লাখে মাত্র একজনের। কানাডা জনসন অ্যান্ড জনসনের ভ্যাকসিন এরই মধ্যে অনুমোদন দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রয়োগ শুরু হয়নি।

এই ঝুঁকি থেকে ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন ইমিউনাইজেশন যেসব কানাডিয়ানের কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত অথবা গুরুতর অসুস্থ্য হওয়ার ঝুঁকি কম তাদেরকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জনসন অ্যান্ড জনসনের ভ্যাকসিন না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। যদিও ফাইজার-বায়োএনটেক বা মডার্নার ভ্যাকসিনের জন্য তাদেরকে আরও অপেক্ষা করতে হবে। 

তবে অধিকাংশ কানাডিয়ানের তা প্রয়োজন হবে না। কারণ, আগামী দুই মাসে কানাডা যে পরিমাণ ভ্যাকসিন পেতে যাচ্ছে তার ৯০ শতাংশই ফাইজার ও মডার্নার। এই পরিমাণ ভ্যাকসিন দিয়ে প্রত্যেক কানাডিয়ানকে কানাডিয়ান দিবসের আগে অন্তত এক ডোজ দেওয়া সম্ভব। এছাড়া এখন পর্যন্ত কানাডা যে চারটি কোম্পানির কাছ থেকে ভ্যাকসিন কিনেছে তার তিন-চতুর্থাংশই ফাইজার ও মডার্নার। 

এ অবস্থায় ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন ইমিউনাইজেশনের এ সুপারিশ অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন গ্রহীতাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া উচিত কিনা অনেকের মধ্যেই সেই প্রশ্ন দানা বাঁধছে। 

এদিকে হেলথ কানাডার প্রধান মেডিকেল উপদেষ্টা ডা. সুপ্রিয়া শর্মা গত বুধবারও প্রথম যেটা পাওয়া যাবে সেটাকেই সেরা ভ্যাকসিন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আপনার জীবন যদি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে এবং জীবন বাঁচাতে ৯১১ নম্বরে ফোন করতে হয় তাহলে ফোনটি আইফোন থেকে করলেন নাকি স্যামসাং থেকে করলেন সেটা কোনো বিষয় নয়। যা আপনি করতে চেয়েছিলেন সেটা হলেই তো হলো। ভিআইটিটিকে আমি খাটো করে দেখছি না। তবে এটা কদাচিৎ হয় এবং চিকিৎসার সাহায্যে তা নিরাময়যোগ্য।

হিনশ বলেন, অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নেওয়ার ফলে ভিআইটিটির কারণে ৫০ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর সম্ভাবনা ভ্যাকসিন না গ্রহণকারীদের চেয়ে ৩৫০ গুন এবং হাসপাতালে ভর্তির সম্ভাবনা দেড় হাজার গুন কম। 

নয়দিন আগে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নিয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড। তিনিও কানাডিয়ানদের প্রতি যত দ্রুত সম্ভব ভ্যাকসিন নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আপনি যোগ্য হলে ভ্যাকসিনেশন সেন্টারে যান এবং হেলথ কানাডা অনুমোদিত যে ভ্যাকসিনটিই আছে সেটি গ্রহণ করুন। 

 

Comments