মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ৮:১৬ am

গোষ্ঠী সংক্রমণ থামানোয় বেশি মনোযোগ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

গোষ্ঠী সংক্রমণ থামানোয় বেশি মনোযোগ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্যাটি হাইডু

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টের প্রবেশ বন্ধে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের দাবি সত্ত্বেও গাষ্ঠী সংক্রমণ থামানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কানাডার স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্যাটি হাইডু। রোববার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মানুষ কর্মক্ষেত্রে, জনবহুল বাসস্থানে ও কমিউনিটিতে অসুস্থ হচ্ছে। তাই যেসব জায়গায় গোষ্ঠী সংক্রমণ হচ্ছে সেসব জায়গায় আমাদের বাড়তি মনোযোগ দিতে হবে। কারণ, কমিউনিটিতে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ কমানো গেলে কানাডিয়ানরা আরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।
স্থল সীমান্ত দিয়ে কানাডায় প্রবেশকারীদের জন্য তিনদিনের জন্য হোটেল কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করতে ফেডারেল সরকারের প্রতি শুক্রবার দাবি জানিয়েছে অন্টারিও। বর্তমানে বাধ্যতামূলক হোটেল কোয়ারেন্টিন চালু থাকলেও তা কেবল আকাশপথে ভ্রমণকারীদের জন্য প্রযোজ্য। তিনদিনের হোটেল কোয়ারেন্টিন শেষে এসব যাত্রীকে আরও ১৪ দিন বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।
অন্টারিওর বলছে, আন্তর্জাতিক যাত্রীরা পাশর্^বর্তী মার্কিন বিমানবন্দরে ফিরতি টিকিট কাটছেন। এরপর তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ট্যাক্সি নিয়ে স্থলপথে কানাডায় ঢুকছেন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়াতেও বিষয়টি তোলা হয়েছে।
এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ফার্স্ট মিনিস্টার’স বৈঠকে অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড আন্তর্জাতিক ও প্রাদেশিক সীমান্তে কঠোরতা আরোপ প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর প্রতি আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্যাটি হাইডু এ প্রসঙ্গে বলেন, যেসব দেশ সীমান্তে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কানাডা তার মধ্যে অন্যতম। প্রিমিয়ার ফোর্ডের উচিত ফেডারেল বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে স্থানীয় ও প্রাদেশিক পুলিশকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া।
আকাশপথে ভ্রমণকারীদের আরও বেশি সময় হোটেল কোয়ারেন্টিনে রাখার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করে প্যাটি হাইডু। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল হাতে পেতে তিনদিন সময় যথেষ্ট।
তবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে যাত্রীদের পুরো ১৪ দিনই সরকারের তদারকিতে কোয়ারেন্টিনে থাকার নিয়ম রয়েছে। স্থলসীমান্ত দিয়ে যাতায়াতকারী অত্যাবশ্যকীয় কর্মীদের র‌্যাপিড টেস্টও অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কারণ, পরীক্ষামূলক এ কর্মসূচির আওতায় মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ কোভিড সনাক্ত হয়েছেন।
২৯ এপ্রিল পর্যন্ত কানাডাজুড়ে অধিক সংক্রামক ভ্যারিয়েন্টে ১ লাখ ৬ হাজার ৮০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদেতর অধিকাংশই আক্রান্ত হয়েছেন যুক্তরাজ্যে সনাক্ত হওয়া বি.১.১.৭ ভ্যারিয়েন্টে। এখন নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভারতে সনাক্ত হওয়া ডাবল মিউটেশন ভ্যারিয়েন্ট বি.১.৬১৭। কারণ, ভারতে এখন প্রতিদিনই ৪ লাখের মতো মানুষ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হচ্ছেন।

Comments