মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ৬:৫০ am

অবহেলার শিকার অন্টারিওর লং-টার্ম কেয়ার হোম

অবহেলার শিকার অন্টারিওর লং-টার্ম কেয়ার হোম

ছবি সংগৃহীত

কোভিড-১৯ মহামারির প্রথম কয়েক মাস অন্টারিওর লং-টার্ম কেয়ার হোমগুলো অবহেলিত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে। তাই অন্টারিওর লং-টার্ম কেয়ার হোমগুলোর ওপর যে আলো পড়েছে তাকে ঝাপসা হতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিন এ মন্তব্য করেন তারা। অন্টারিও লং-টার্ম কেয়ার কোভিড কমিশন খাতটিকে ঢেলে সাজাতে একাধিক সুপারিশও করেছে। শুক্রবার রাতে প্রতিবেদনটি সরকারের কাছে হস্তান্তর করে কমিশন।
প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞ ও কোভিড-১৯ মৃত্যুবরণকারীর স্বজনদের বক্তব্য তুলে আনা হয়েছে প্রতিবেদনে। এদের একজন তারা ব্যারোজ। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত লং-টার্ম কেয়ার হোমেই মারা গেছেন তার মাতামহ। তার পরিবারের অভিজ্ঞতা নথিবদ্ধ করার বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি।
কমিশনাররা বলেছেন, মহামারির ব্যাপারে সরকারের যথেষ্ট প্রস্তুতি ছিল না এবং লং-টার্ম কেয়ার হোম খাতকে রক্ষায় দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। অন্য খাতগুলোর ক্ষেত্রে যেটা দেখা যায়নি। ভয়ঙ্কর পরিবেশের মধ্যে বাসিন্দাদের তাদের কক্ষে একাকী সময় কাটাতে হয়েছে। অনেক সময় তাদের ডায়াপার নোংরা হলেও গোসল করতে পারেননি।
এসব নিয়ে কমিশনের সামনে সাক্ষ্য দিয়েছেন ব্যারোজ। ওয়েস্টন টেরাস কেয়ার কমিউনিটির বিরুদ্ধে যারা ক্লাস-অ্যাকশন মামলার প্রস্তাব করেছেন ব্যারোজ তাদের একজন। এই লং-টার্ম কেয়ার হোমেই তার মাতামহ ডরিট থাকতেন এবং এখানেই তিনি মারা যান। কমিশনের কঠোর বার্তা সত্ত্বেও লং-টার্ম কেয়ার হোমের ব্যবস্থায় ফোর্ড সরকার যে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সে ভরসা করতে পারছেন না ভ্যারোজ।
তিনি বলেন, আমার মনে হয় আমাদের সবারই একই ভয়। আমাদের প্রতিবেদন আছে। সেখানে সুপারিশও করা হয়েছে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সেটাই আমরা ঘটতে দেখতে যাচ্ছি। কিন্তু কেউই এ ব্যাপারে কিছু করছে না।
তবে তার আশাটা অন্যখানে। ব্যারোজ বলেন, আমার প্রত্যাশা এ প্রতিবেদন সরকারে পরিবর্তন আনবে। ভ্যাকসিন কোনো মহৌষধ নয়। যা কিছু ঘটেছে তা ভুলে যাওয়ার মতো নয়।
৩২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে কমিশন বলেছে, সার্স থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরও কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলয়া প্রদেশের প্রস্তুতিতে খামতি ছিল।
গত বছর কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত লং-টার্ম কেয়ার হোমগুলোর প্রায় ৪ হাজার বাসিন্দা মারা গেছেন। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে কেয়ার হোমের কর্মী মারা গেছেন ১১ জন।
টরন্টোর প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডা. নাহিদ দোসানি বলেন, প্রদেশজুড়ে বিপুল সংখ্যক পরিবার ও কেয়ারগিভারকে যে ধরনের চাপ ও হতাশার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এ সংখ্যা দিয়ে তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। যা ঘটেছে তা ভোলার মতো নয়। এই ক্ষত সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।
অন্টারিও সুপেরিয়র কোর্ট অ্যাসোসিয়েট চিফ জাস্টিস ফ্রাঙ্ক মারাক্কো নেতৃত্বাধীন কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, দুর্বল অবকাঠামো ও বাসিন্দাদের গাদাগাদি করে থাকার কারণে নার্সিং হোমগুলোতে অসুস্থতা ও মৃত্যু বেশি হয়েছে। কর্মী স্বল্পতা ও সংক্রমণ প্রতিরোধ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে গেছে।
প্রতিবেদন পাওয়ার পর শুক্রবার রাতেই একটি বিবৃতি দিয়েছেন অন্টারিওর লং-টার্ম কেয়ার বিষয়ক মন্ত্রী মেরিলি ফুলারটন। বিবৃতিতে তিনি কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে আসা বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার পাশাপাশি খাতটিকে নিরাপদ ও আধুনিক করতে কাজ করার প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছেন।


Comments